BJP Leader Suspend

প্রোমোটারের কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ, সাসপেন্ড বেহার বিজেপি নেতা, কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিল দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি

ঘটনার সূত্রপাত বেলার ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি নির্মীয়মাণ বহুতল ঘিরে। সেখানে কাশীনাথ মণ্ডল নামে এক নির্মাণ ব‍্যবসায়ী প্রোমোটিং করছেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি ওই জমিতে কাজ শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। সেই সময় তাঁকে বিজেপি নেতা তুহিন পাল নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান।

বেহালার বিজেপি নেতা তুহিন পাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০২:৩৯

প্রোমোটারের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হল বেহালার বিজেপি নেতাকে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতার নাম তুহিন মন্ডল। রাজ‍্য বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তাঁকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে তুহিনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘটনার সূত্রপাত বেহালার ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি নির্মীয়মাণ বহুতল ঘিরে। সেখানে কাশীনাথ মণ্ডল নামে এক নির্মাণ ব‍্যবসায়ী প্রোমোটিং করছেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি ওই জমিতে কাজ শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। সেই সময় তাঁকে বিজেপি নেতা তুহিন পাল নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান। অভিযোগ, সেখানে তাঁকে বলা হয়, কাজ শুরু করতে হলে বিজেপির দলীয় তহবিলে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে। না হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

কাশীনাথের কথায়, তাঁর পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। বারবার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই প্রোমোটারের আরও দাবি, তুহিন যে টাকা চেয়েছে, তার অডিয়ো রেকর্ডিং তাঁর কাছে রয়েছে। সেই অডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল হয়েছে। যদিও ‘এখন কলকাতা’ এই অডিয়ো রেকর্ডিং-এর সত্যতা যাচাই করেনি।

বিষটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়। বিজেপির রাজ‍্য নেতৃত্বের নজরে তা এসেছে। এর পরেই দলের সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তরফে প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় তুহিন পালকে চিঠি দিয়ে এই বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

চিঠিতে জানানো হয়েছে, তুহিন পালের বিরুদ্ধে ভোটের পর মানুষকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং তোলাবাজির অভিযোগ এসেছে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এই ধরনের কাজ অত্যন্ত লজ্জাজনক। এমন কার্যকলাপ দলের নিয়মনীতির বিরুদ্ধে। সেই কারণেই তাঁকে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এমন কাজের কেন তিনি করেছেন তা আগামী সাত দিনের মধ্যে নেতৃত্বকে লিখিত ভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের আমলে ব্যবসা করতে গেলে তোলা দিতে হত বলে বারবার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল বিজেপি। বিজেপি দলীয় নেতৃত্ব বারবার দাবি করে এসেছে, তাদের শাসনকালে ব্যবসা করতে গেলে কোনও রকম তোলা বা চাঁদা দিতে হবে না। দলেরই স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।


Share