Cyber Crime

আসল বিল স্ক্যান, সফটওয়্যারে অঙ্ক বদল! রঙিন প্রিন্টে জাল বিল ধরিয়ে বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর ১৮ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ, ধৃত আরশাদ

অভিযোগ, এ ভাবেই আসল বিলের অঙ্ক কারচুপি করে জাল বিদ্যুৎ বিল তৈরি করে প্রায় আট বছর ধরে এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এলাকার এক যুবক।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫৩

তিন হাজার ৬৩৮ টাকার বিল বদলে করা হয়েছিল ২৩ হাজার ৬৩০ টাকা। দু'হাজার ৭২৩ টাকার জায়গায় বসানো হয়েছিল ১২ হাজার ৭২০ টাকা। এমনকি, যেখানে বিদ্যুৎ বিলের অঙ্ক মাইনাসে ছিল, সেখানেও দেখানো হয়েছিল আট হাজার ৩৫০ টাকা! অভিযোগ, এ ভাবেই আসল বিলের অঙ্ক কারচুপি করে জাল বিদ্যুৎ বিল তৈরি করে প্রায় আট বছর ধরে এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এলাকার এক যুবক। পালানোর আগেই অবশ্য পূর্ব কলকাতার নারকেলডাঙা থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মহম্মদ আরশাদ।

পুলিশ জানিয়েছে, ক্যানাল ইস্ট রোডে থাকেন বৃদ্ধ মহম্মদ নাসিম আনসারি। ওই এলাকাতেই তাঁর ব্যবসা রয়েছে। বয়সের কারণে তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। সেই কারণে এলাকারই যুবক আরশাদকে বিদ্যুতের বিল জমা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। অভিযুক্তের একটি এসটিডি বুথ ছিল। বর্তমানে সেটি বিশেষ কার্যকর না থাকায় বিল জমা দেওয়া-সহ তিনি বিভিন্ন ধরনের কাজ করতেন। সেই সূত্রেই নাসিমের বাড়ি এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি মিটারের বিল জমা দেওয়ার দায়িত্ব পান আরশাদ।

পুলিশের দাবি, নাসিমের ঠিকানায় বিদ্যুৎ সংস্থার বিল পৌঁছোলে তা তাঁর ম্যানেজার আরশাদের একটি বাক্সে রেখে দিতেন। আরশাদ সেই বিল এবং সংশ্লিষ্ট টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ সংস্থার দফতরে গিয়ে জমা দিতেন। পরে জমা দেওয়া বিল নাসিমের কাছে পৌঁছে দিয়ে তাঁর কাছ থেকে তিনি নগদ টাকা নিতেন। অভিযোগ, আরশাদ এই ব্যবস্থার সুযোগই নিতে শুরু করেন। নিজের ছোট দোকানেই তৈরি করে ফেলেন জাল বিদ্যুৎ বিল তৈরির ব্যবস্থা। তিনি কম্পিউটারে আসল বিল স্ক্যান করে সফটওয়্যারের সাহায্যে তাতে থাকা টাকার অঙ্ক বদলে দিতে শুরু করেন। এরপর সেই পরিবর্তিত বিলের রঙিন প্রিন্ট আউট বার করে তা আসল বিলের মতোই নাসিমের হাতে তুলে দিতেন।

এতটাই নিখুঁত ভাবে বিলের অঙ্ক বদলানো হত যে, দেখে বোঝার উপায় ছিল না সেগুলি জাল। আরশাদের উপর বৃদ্ধের অগাধ বিশ্বাস থাকায় বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি হলেও তিনি কখনও সন্দেহ করেননি। উল্টে, বিদ্যুতের বিল বেশি আসছে বলে কখনও বৃদ্ধের সামনে দুঃখপ্রকাশ করতেন অভিযুক্ত যুবক, কখনও আবার বিদ্যুৎ সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতেন। ফলে সন্দেহের অবকাশই তৈরি হয়নি। সম্প্রতি কয়েকটি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাঁরা ওই বিলগুলি নিয়ে বিদ্যুৎ সংস্থার দফতরে যান এবং কর্তাদের কাছে জানতে চান, কেন এত বেশি বিল আসছে। পুরনো নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎ সংস্থার আধিকারিকেরা আসল বিলের অঙ্ক সামনে আনেন। তা দেখেই কার্যত হতবাক হয়ে যান বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যেরা। পরিবারের অভিযোগ, আসল বিলের অঙ্কের সঙ্গে বিস্তর কারচুপি করে আরশাদ জাল বিল তৈরি করতেন। সেই বিল দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিতেন তিনি। তাঁদের দাবি, প্রায় আট বছর ধরে এই কায়দায় বৃদ্ধের কাছ থেকে অভিযুক্ত যুবক মোট ১৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর পরেই বৃদ্ধ নারকেলডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পুলিশি তৎপরতার আঁচ পেয়ে কলকাতা থেকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন আরশাদ। তবে তার আগেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

শুধু ওই বৃদ্ধই নন, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য বিল জমা দেওয়ার পরিষেবা দেওয়ার নাম করে আরশাদ আর কত জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রে আর কেউ জড়িত কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


Share