Nabanna

দুর্নীতির বিরুদ্ধে টোল-ফ্রি হেল্পলাইনে জনতার ঢল! প্রথম দিনেই প্রায় দু'হাজার অভিযোগ, কাটমানির পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবার সমস্যাতেও সরব মানুষ

নবান্ন সূত্রের খবর, অভিযোগ শুধু কাটমানি বা সিন্ডিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, জমি-বাড়ি সংক্রান্ত সমস্যা, রাস্তার বেহাল অবস্থা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং জল জমার মতো নাগরিক পরিষেবার নানা বিষয়েও বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ১১:২৩

দুর্নীতি রুখতে মঙ্গলবার টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালু করে রাজ্য সরকার। কাটমানি, সিন্ডিকেট, বেআইনি টোল আদায়, অবৈধ মদের ঠেক-সহ যে কোনও ধরনের দুর্নীতি বা অপরাধের অভিযোগ এই নম্বরে জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ বলে জানানো হয়। বুধবার থেকে পরিষেবা চালু হতেই প্রথম দিনেই নবান্নের কন্ট্রোল রুমে জমা পড়েছে প্রায় দু'হাজার অভিযোগ। নবান্ন সূত্রের খবর, অভিযোগ শুধু কাটমানি বা সিন্ডিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, জমি-বাড়ি সংক্রান্ত সমস্যা, রাস্তার বেহাল অবস্থা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং জল জমার মতো নাগরিক পরিষেবার নানা বিষয়েও বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, কন্ট্রোল রুমে আসা প্রতিটি অভিযোগই সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে, যে চারটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফরওয়ার্ড করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া যায়।

রাজ্যে পুলিশের স্বচ্ছতা বাড়ানো ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি গ্রহণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার ভবানীভবনের অনুষ্ঠানে চারটি টোল-ফ্রি নম্বর চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাটমানি, সিন্ডিকেট, বেআইনি রোড ট্যাক্স/টোল আদায় ও বেআইনি মদের কারবার সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে চালু হয়েছে ১৫৫৩৩৪, ১৫৫৩৩৫, ১৫৫৩৩৭ ও ১৫৫৩৩৯ নম্বর।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট নম্বরগুলিতে অভিযোগ জানানো যাবে। নবান্নের বিশেষ কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম মুখ্যমন্ত্রী নিজেও পরিদর্শন করবেন। তবে টোল-ফ্রি নম্বরের অপব্যবহার বা ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে মিথ্যা তথ্য দিলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, হেল্পলাইনে আসা প্রতিটি ফোন কল রেকর্ড করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে সেই তথ্য পুনরুদ্ধার করা যাবে। অভিযোগগুলির প্রাথমিক বাছাইয়ে কৃত্রিম মেধা ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর পুলিশ আধিকারিকরা অভিযোগগুলি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট সময় অন্তর কতগুলি অভিযোগ জমা পড়েছে, তার মধ্যে কতগুলির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে।


Share