RG Kar Hospital

আরজি করে আবার লিফট বিভ্রাট! হাসপাতালের শৌচাগার ব‍্যবহার করতে না দেওয়ায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত‍্যু হয়েছে বিশ্বজিৎ সামন্তের। আরজি কর মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি বলে তাঁরা দাবি করেছে। তবে টালা থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

আবার আরজি কর মেডিকেলের বিরুদ্ধে অব‍্যবস্থার অভিযোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১০:৫১

চরম অব‍্যবস্থা আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। এ বার ট্রমা কেয়ারে শৌচাগার ব‍্যবহার করতে না দেওয়ায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। মৃতের পরিজনেরা হাসপাতালে কর্তব‍্যরত কর্মীদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।

মৃতের নাম বিশ্বজিৎ সামন্ত (৬০)। তিনি নিমতার বাসিন্দা। সোমবার গভীর রাতে তিনি বুকে ব‍্যাথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসা করাতে আসেন। শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে জরুরি বিভাগের ভর্তিও করে নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, ভোর ৫টার দিকে শৌচাগারে যাওয়ার জন্য বলেন।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, জরুরি বিভাগের নীচের তলার শৌচাগার অপরিষ্কার রয়েছে। তার ওপর লিফট খারাপ। তাই তাঁকে ট্রমা কেয়ারের বাইরে সুলভ শৌচাগারে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে লিখে যাওয়ার সময়ই বিশ্বজিতবাবুর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের শৌচাগার রোগীকে ব‍্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। বাইরে নিয়ে যেতে বলা হয়। এমনকী, শৌচাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রেচার চাওয়া হলেও পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত‍্যু হয়েছে বিশ্বজিৎ সামন্তের। আরজি কর মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি বলে তাঁরা দাবি করেছে। তবে টালা থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

গত শুক্রবার আরজি কর মেডিকেলে লিফট বিভ্রাটের জেরে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছে। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে লিফট এবং দেওয়ালের মাঝে আটকে যান তিনি। ঘটনায় কর্তব‍্যে গাফইলতির অভিযোগ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জন লিফটম‍্যান এবং দু’জন নিরাপত্তারক্ষী রয়েছে। অভিযোগ, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া সত্ত্বেও তাঁরা উদাসীন ছিল। গান শুনতে মত্ত ছিলেন। তাঁদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করছে লালবাজারের হোমিসাইডের গোয়েন্দারা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার অব‍্যবস্থার অভিযোগ সামনে এল।


Share