Allegation of Beaten Up

‘আমি আদালত, আমি থানা,’ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রৌঢ়কে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ বেলেঘাটায়, রাজু নস্কর-সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেলেঘাটা থানার পুলিশ। আক্রান্ত ব‍্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:২১

‘আমিই আদালত, আমিই থানা।’ বেলেঘাটায় জোর করে বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠল তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নির্মাণ ব‍্যবসায়ী রাজু নস্করের বিরুদ্ধে। তা দিতে অস্বীকার করায় প্রৌঢ়কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে লাঠি-রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। প্রৌঢ়ের অভিযোগ, অনেক দিন ধরেই তাঁকে বাড়িটি হস্তান্তর করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। গত কয়েক দিন আগে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নির্মাণ ব‍্যবসায়ী রাজু নস্কর ৪০-৫০ জন দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে তাঁকে অন্যত্র তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আক্রান্ত ব‍্যবসায়ীর নাম সুকমল দেবনাথ (৫২)। তাঁর কথায়, গত বুধবার রাত ন’টা নাগাদ বেলেঘাটা মেন রোডে এলাকায় সুকমল দেবনাথ নামে এক ব‍্যবসায়ীর বাড়িতে ৪০ থেকে ৫০ জন দুষ্কৃতী আসে। সেখানে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নির্মাণ ব‍্যবসায়ী রাজু নস্করও ছিল বলে দাবি। অভিযোগ, সেই সময় রাজু এবং তাঁর দলবল বাড়ি তাঁর নামে লিখিয়ে দেওয়ার জন‍্য হুমকি দিতে থাকে। এর এক পর্যায়ে সুকমলবাবুকে বাইকে চাপিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে নিজের অফিসে নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। চর, ঘুষি, লাঠি, রড দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সেদিন রাতেই তিনি বেলাঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরে নিকটবর্তী এনআরএস হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি চলে আসেন। সুকমল বলেন, “আমার বাড়িটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। কিন্তু তার পরেও বাড়ি তাঁর নামে লিখে দিতে হবে বলে হুমকি দিচ্ছে।” তাঁর কথায়, “সেদিন তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল রাজু। রাজু নস্কর বলেছে, “বেলেঘাটায় আমিই আদালত, আমিই থানা। আমি স্থানীয় কাউন্সিলরকে কোটি কোটি টাকা দিয়েছি।” এমনকী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করেও হুমকি দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন।

তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হলেও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন আছে তা-ও জানতে চায়নি পুলিশ। তাঁর আরও অভিযোগ, বুধবার সকালেও কয়েক জন মহিলা তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়েন। জোর ঘর থেকে তাঁকে বার করে ঘর ফিতে দিয়ে মাপে ঘর বন্ধ করে চলে যায়। বলেন, “আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার সুরক্ষায় প্রসাশন কোনও সদর্থক ভূমিকা পালন করছে না।”

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেলেঘাটা থানার পুলিশ। আক্রান্ত ব‍্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। 


Share