Suvendu Adhikari

‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ! হাত-পা কাটা থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহারের দাবি, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি বিজেপির

শুধু তাই নয়, ফলতায় কেন ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের প্যান্ডেল খোলা হয়নি, তা নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে শনিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি বিজেপির
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফলতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ ০৫:৫৮

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যের চিকিৎসা পরিষেবায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা। শুধু তাই নয়, ফলতায় কেন ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের প্যান্ডেল খোলা হয়নি, তা নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে শনিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

শুক্রবার বিধানসভায় সেবাশ্রয় শিবিরকে কেন্দ্র করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ফলতার বিজেপি বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, ফলতা এলাকায় সেবাশ্রয় শিবিরের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি মাঠ দখল করে রাখা হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় শিশুদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে রয়েছে। বিধায়কের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে শিবিরে একাধিক অনিয়ম ও গাফিলতির ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, ‘‘কোনও রোগীর হাত বাদ গিয়েছে, কোনও রোগীর পা বাদ গিয়েছে।’’ পাশাপাশি তিনি জানান, শিবিরের জন্য যে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছিল, সেটি খুলতে সরকারের প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা খরচ হবে। বিধানসভায় তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘‘ওই প‍্যান্ডেল রেখে দেওয়ার অর্থ ছিল, ৪ মে ভোটের ফলঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের নিয়ে গিয়ে পালিশ করা। আমি এই বিষয়টি বিধানসভার নজরে আনছি। মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছি।’’ এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে বিষয়টি বিধানসভার নজরে আনেন তিনি।

এর জবাব দেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে এই বিষয়ে (সেবাশ্রয়) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ পেয়েছি। চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ উঠছে। আগামী বিধানসভার অধিবেশনে এই বিষয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।’’

তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজের সংসদীয় এলাকা ডায়মন্ড হারবারে ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের সূচনা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতেন। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভিন্‌রাজ্য থেকেও বহু মানুষ এই শিবিরে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন বলে দাবি করা হয়। সময়ের সঙ্গে প্রকল্পটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তাও অর্জন করে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের আয়োজন করেছিলেন অভিষেক। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্থবার সরকার গঠনের লক্ষ্যে ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলে বাড়ির কাছেই চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পর ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। ডায়মন্ড হারবারে এই প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি এফআইআরও দায়ের হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি অনুমোদনের তোয়াক্কা না করেই এই স্বাস্থ্য শিবিরগুলি পরিচালিত হয়েছিল। বেআইনি ভাবে চিকিৎসার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় বলে দাবি। এমনকি, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। পাশাপাশি, একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী ও ইন্টার্ন চিকিৎসক মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের শংসাপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। অভিযোগ, শংসাপত্র না পেলেও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁদের ওই স্বাস্থ্য শিবিরে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।


Share