Ph.D Scam

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি কোর্সে ভর্তিতে দুর্নীতি, স্বজনপোষণের অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের দাবি এবিভিপির

এবিভিপির দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং ইমনকল‍্যাণ লাহিড়ীর। সেখানে ভিসিকে অনষ্ঠুপ ভট্টাচার্য এবং অরুপ বলে এক যুবককে গবেষণার কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন‍্য পরিকল্পনা করছেন।

রাজ‍্যপালের সঙ্গে বৈঠক এবিভিপির প্রতিনিধিরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০৪:০৯

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কোর্সে স্বজনপোষণের অভিযোগ করেছে এবিভিপি। তাঁদের দাবি, এই কোর্স সম্পূর্ণ করতে ইউজিসির নিয়ম মানা হয়নি। দুর্নীতি করেছে কমিউনিস্টরা। যাবতীয় অভিযোগ নিয়ে রাজ‍্যপাল আর এন রবির সঙ্গে এবিভিপির প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। এ ছাড়াও, যাদবপুরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ে এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েন তাঁরা।

ইতিমধ্যেই একটি কথপকথন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের সত‍্যতা ‘এখন কলকাতা’ যাচাই করেনি। এবিভিপির দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং ইমনকল‍্যাণ লাহিড়ীর। সেখানে ভিসিকে অনষ্ঠুপ ভট্টাচার্য এবং অরুপ বলে এক যুবককে গবেষণার কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন‍্য পরিকল্পনা করছেন। বলা হচ্ছে, পদার্থবিদ‍্যার অধ্যাপক পার্থপ্রতিম রায়ের নির্দেশ রয়েছে।

প্রার্থপ্রতিম রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিস্টদের অধ‍্যাপক সমিতি, জুটার নেতা। ইমনকল‍্যাণ লাহিড়ীও কমিউনিস্ট। ভিসি চিরঞ্জীবও কমিউনিস্ট মতাদর্শের। ইমনকল‍্যাণ লাহিড়ীকে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে তথাকথিত আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনায় বসেন। পার্থপ্রতিম রায়ও বিভিন্ন সময় সংসদে বিতর্কসভায় সিপিএমের হয়ে প্রচার করেন।

এবিভিপির বক্তব্য, ওয়েস্ট বেঙ্গল রিসার্চ এন্ট্রান্স টেস্ট বন্ধ হয়েছে। এই পরীক্ষা স্বজনপোষণ করে কমিউনিস্টরা নিজেদের লোককে জায়গা দেয়। যাঁরা ইউজিসি নেট, সেট পাশ করেছে তাঁরা বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁরা জেআরএফ পাচ্ছেন না। অবৈধ ভাবে তাঁদেরকে তালিকায় পেছনে রাখা হয়েছে। বদলে অবৈধ ভাবে যাঁরা এই কোর্স করেছে তাঁরা সরকারি স্কলারশিপ পাচ্ছেন। এডুকেশন, বাংলা, ইংরেজি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সংস্কৃত-সহ বাকি কলাবিভাগের অধ‍্যাপকেরা কমিউনিস্ট সংগঠন জুটার সঙ্গে যুক্ত। দাবি, এই সমস্ত ছেলেরাই ডিগ্রি নিয়ে ‘দিমাগি নকশাল’ হিসেবে কমিউনিজমের প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করে।

এবিভিপির তরফে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শুভব্রত অধিকারী, রাজ‍্য সাধারণ সম্পাদক (দক্ষিণবঙ্গ) নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য রাজ‍্যপাল রবীন্দ্রনারায়ণ রবির সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের সঙ্গে এবিআরএমের নেতা বুদ্ধদেব সরকার ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের বক্তব্য, এ ভাবে পিএইডি কোর্সে ভর্তি ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয়েছে। এডুকেশন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে সবচেয়ে বেশি হয়েছে। সেই সময় যা হয়েছিল তা-ও অবৈধ ছিল। ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী, একজন অধ্যাপক আট জনের বেশি ছাত্রকে পিএইডির গাইড হতে পারেন না। কিন্তু এখানে দেখা গিয়েছে, কোনও কোনও অধ‍্যাপক ২০-২৫ জনকে রেখেছে। এটা একপ্রকার ব‍্যবসা। এর ফলে মান কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি রাজ‍্যপালকে জানানো হয়েছে। তিনি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।”

অখিল ভারতীয় বিদ‍্যার্থী পরিষদের অভিযোগ, এই ঘটনার যিনি তদন্ত করেছিলেন তিনম সম্ভবত কোনও উপসংহারে আসতে পারেনি। যিনি অনুষ্টুপকে প্রভিশনাল ভর্তিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনিই আবার অশান্তির ঘটনার তদন্ত করছেন। তাই পিএইডি দুর্নীতির অভিযোগটি সিবিআইয়ে দিয়ে তদন্ত করা হোক বলে দাবি জানিয়েছে এবিভিপি।

এই বিষয়ে এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, "যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনও অভিযোগ বা অনিয়মকে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "উত্থাপিত অভিযোগগুলির দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।"

এবিভিপির এমন অভিযোগ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পিএইডির ডিগ্রি নিয়ে যাঁরা নিজেদের ‘নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে দাবি করে রাজ‍্যবাসীর কাছে মত প্রকাশ করেন, সেই মতের গ্রহণযোগ্যতা কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ-ও প্রশ্ন উঠছে, এমন তথাকথিত রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করা তাঁদের গবেষণাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও। শুধুমাত্র নিজেদের ‘এজেন্ডা’কে জনমত বলে চালানোর প্রচেষ্টা বলেও কেউ কেউ দাবি করছেন।


Share