Water Pollution

ইন্দোর, হরিয়ানার পর এবার দূষিত জলে আক্রান্ত নিউ টাউনের এক আবাসন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩০০, কর্তৃপক্ষের অবহেলায় জল দূষণের অভিযোগ

বাসিন্দাদের দাবি, ই-ব্লকের প্রায় প্রতিটি ফ্ল্যাটেই অন্তত একজন করে পেটব্যথা, বমি ও জ্বরে ভুগছেন। এক বাসিন্দার কথায়, তাঁর দুই মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসকেরা দূষিত জলকেই কারণ হিসেবে জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কল খুললেই দুর্গন্ধযুক্ত হলদে জল বেরোচ্ছে, অথচ বারবার জানানো সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৫০

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর বা হরিয়ানার পালওয়ালই নয়, দূষিত জলের সমস্যায় এবার জেরবার নিউ টাউনের একটি অভিজাত আবাসনও। অভিযোগ, গত তিন সপ্তাহে আবাসনের ই-ব্লকের তিনশোর বেশি বাসিন্দা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওভারহেড ট্যাঙ্কের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়াতেই জল দূষিত হয়েছে। একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। সোমবার এই নিয়ে ফেসিলিটি ম্যানেজারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা।

আবাসনটিতে মোট ৫২২ জনের বসবাস। বাসিন্দাদের দাবি, ই-ব্লকের প্রায় প্রতিটি ফ্ল্যাটেই অন্তত একজন করে পেটব্যথা, বমি ও জ্বরে ভুগছেন। এক বাসিন্দার কথায়, তাঁর দুই মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসকেরা দূষিত জলকেই কারণ হিসেবে জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কল খুললেই দুর্গন্ধযুক্ত হলদে জল বেরোচ্ছে, অথচ বারবার জানানো সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আরেক বাসিন্দা জানান, প্রায় সব বিল্ডিংয়েই কেউ না কেউ অসুস্থ। তাঁর পরিবারেও একাধিক সদস্য পেটের সংক্রমণে ভুগছেন। তাঁর মতে, এতজনের একসঙ্গে অসুস্থ হওয়া নিছক কাকতালীয় নয়, জলের দূষণই মূল কারণ।

পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা টেকনোসিটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর পুলিশ আবাসনে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং ফেসিলিটি ম্যানেজমেন্টকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়।

এদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষ অসুস্থ হওয়ার খবরে তৎপর হয়েছে এনকেডিএ-ও। এক আধিকারিক জানান, ‘নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে জলের গুণমান পরীক্ষা করা হয়। গত সপ্তাহ পর্যন্ত ওই আবাসনে সরবরাহ করা জলে কোনও দূষণ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর আবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দেখা হবে জলের দূষণ, না সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ সমস্যা।’


Share