Electricity

অর্ধশতকের অন্ধকার কাটিয়ে বৃষ্টির ঘরে আলো, আবেগঘন মুহূর্তে কৃতজ্ঞতার বার্তা এলাকার বিধায়ককে

বৃষ্টির পরিবার জানায়, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বহুবার তাঁর মা ও ঠাকুমা স্থানীয় কাউন্সিলরের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি।

উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার তাদের পরিবারে আলো এনে দিয়েছেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৭:৫৪

উত্তর দমদমের গ্লোব নার্সারি এলাকার একটি পরিবারের জীবনে অবশেষে নেমে এসেছে আলোর ছোঁয়া। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে পরিবারটি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বসবাস করছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁরা বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার তাদের পরিবারে আলো এনে দিয়েছেন।

পরিবারের তরুণী সদস্য বৃষ্টি মণ্ডল। তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা অন্ধকারের মধ্যেই কেটেছে। সন্ধ্যা নামলেই আশপাশের বাড়িগুলিতে বিদ্যুতের আলো জ্বলে উঠত। কিন্তু তাঁদের ঘরে ভরসা ছিল কেরোসিনের বাতি। গরমের দিনে তাঁদের হাতপাখাই সঙ্গ দিত। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই বৃষ্টি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। তিনি বিরাটি মহাজাতি গার্লস স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন। বর্তমানে একটি চাকরিও করছেন।

বৃষ্টির পরিবার জানায়, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বহুবার তাঁর মা ও ঠাকুমা স্থানীয় কাউন্সিলরের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। এই প্রসঙ্গে বৃষ্টি বলেন, “আমাদের কাউন্সিলার তৃণমূলের সন্ধ্যা মণ্ডলের কাছে বহু বার গিয়েছি। কিন্তু উনি কোনও রকম সাহায্য করেননি। এটা আমরা আশা করিনি যে, উনি আমাদের এ ভাবে ফিরিয়ে দেবেন। আমরা গরিব মানুষ। আমাদের সাহায্য করা উচিত ছিল।”

বৃষ্টির ঠাকুমা আরতি মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন। পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের একে একে হারিয়েছেন। এর পর নাতনিকে নিয়ে তিনি বহু কষ্টে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, এলাকার কিছু আত্মীয়ের আপত্তি ও বাধার কারণেই এত বছর বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা তো দূরের কথা, বরং বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের।

পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে নির্বাচনী প্রচারের সময়। পরিবারের দাবি, প্রচারে এসে তাঁদের দুরবস্থার কথা শোনেন উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। তখনই তিনি সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সম্প্রতি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়। পরিবারের সদস্যদের আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর বিধায়কের সঙ্গে দেখা হলে তাঁকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন আরতি মণ্ডল।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বৃষ্টি বলেন, “দাদা (সৌরভ) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উনি কথা রেখেছেন। এর জন্য দাদাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি খুশি।”

অন্য দিকে, এই ঘটনাকে প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন, “বিমানবন্দরের এত কাছে একটি পরিবার ৫০ বছর বিদ্যুৎহীন ছিল। এটা যে কোনও সরকারের জন্য লজ্জার। মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতেই তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি সেই কাজটাই করেছি।”

দীর্ঘ অন্ধকারের পরে মণ্ডল পরিবারের ঘরে জ্বলে ওঠা এই আলো শুধুমাত্র বিদ্যুতের আলো নয়, বরং বহু বছরের অপেক্ষা, সংগ্রাম এবং এক পরিবারের নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।


Share