Illegal Building

হাই কোর্টের নির্দেশে কলকাতা পুরসভার কাছে বেআইনি নির্মাণের নথি চাইল সিবিআই, ঠিকানা-সহ ৪২টি বহুতলের খুঁটিনাটি চেয়ে কমিশনারকে চিঠি কেন্দ্রীয় সংস্থার

কলকাতার চিহ্নিত ৪২টি বেআইনি নির্মাণের নথি চেয়ে কলকাতা পুরসভাকে চিঠি দিয়েছে সিবিআই। পুরসভা সূত্রে খবর, ২৯, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বেআইনি নির্মাণের সংখ্যা বেশি।

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৩

কলকাতার একাধিক ওয়ার্ডে হয়েছে বেআইনি নির্মাণ। এ বার এই বেআইনি নির্মাণগুলির নথি চাইল সিবিআই। কলকাতায় বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলায় তদন্তের প্রাথমিক ধাপ আরও জোরদার করল সিবিআই। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর শহরের চিহ্নিত ৪২টি নির্মাণের যাবতীয় নথি চেয়ে কলকাতা পুরসভাকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

পুরসভা সূত্রের খবর, ২৯, ৩৭ এবং ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বেআইনি নির্মাণের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বহুতল চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে কলকাতা হাই কোর্টে জমা দেওয়ার কথা পুরসভার।

বৃহস্পতিবার ও শনিবার শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালায় সিবিআই। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ সামনে আসার পর ইতিমধ্যেই কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন সিবিআই আধিকারিকেরা। রাজাবাজার, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিট, নারকেলডাঙা, আমহার্স্ট স্ট্রিট, ট্যাংরা, মানিকতলা, বেলেঘাটা-সহ একাধিক এলাকায় পৌঁছেছিলেন তাঁরা।

সেখানে নির্মাণগুলি কী ভাবে হয়েছে, কারা ওই বাড়িগুলিতে বসবাস করেন এবং নির্মাণ সংক্রান্ত কোনও তথ্য স্থানীয়দের কাছে রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হয়। এ বার সেই তথ্যের সঙ্গে পুরসভার নথি মিলিয়ে দেখতে চাইছে সিবিআই।

পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত মোট ৪২টি বাড়ি চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে বেআইনি বহুতলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে। সূত্রের খবর, ৪২টি নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদন সংক্রান্ত নথি, বিল্ডিং প্ল্যান, পুরসভার রেকর্ড-সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। নির্মাণগুলির অনুমোদন ছিল কি না এবং সেগুলি পুরসভার নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছিল কি না, নথি খতিয়ে দেখে তা যাচাই করবেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, কলকাতায় বেআইনি ভাবে বহুতল নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় সম্প্রতি সিবিআইকে প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। মামলায় শহরের ৪২টি নির্মাণের কথা উঠে আসে।

এই ধরনের নির্মাণের ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নির্দেশের পরই প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে সিবিআই। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এবার পুরসভার নথিও হাতে নিতে চাইছে সংস্থা।

নথিতে থাকা তথ্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এখন প্রশ্ন, এত পুরনো ওই নির্মাণগুলির ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা সম্ভব? তা নিয়েই ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের মধ্যে। বিষয়টি সিবিআইকেও বিস্তারিত ভাবে জানানো হবে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।


Share