Calcutta High Court

স্মার্ট মিটার নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক, হাই কোর্টের দ্বারস্থ এক সরকারি সংগঠন, আগামী ২৩ জুন মামলার শুনানির

হাই কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলাটি দাখিল করা হয়েছে এবং তা বিচারপতি অমৃতা সিন্‌হার এজলাসে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করবেন আইনজীবী সাগরিকা গোস্বামী।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৬:৪১

রাজ্যে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার বসানোকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক এ বার পৌঁছেছে আদালতে। এক সরকারি সংগঠনের পক্ষ থেকে কলকাতা হাই কোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আগামী ২৩ জুন বিচারপতি অমৃতা সিন্‌হার একক বেঞ্চে মামলাটির প্রথম শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

সম্প্রতি রাজ্য সরকার বিভিন্ন সরকারি দফতর ও প্রশাসনিক প্রধানদের নির্দেশ দেয়, যাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, কর্পোরেশন এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বা সরকারি বেতনভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসনে দ্রুত স্মার্ট মিটার স্থাপনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই নির্দেশিকার বৈধতা ও প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে এক সরকারি সংগঠন।

হাই কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলাটি দাখিল করা হয়েছে এবং তা বিচারপতি অমৃতা সিন্‌হার এজলাসে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করবেন আইনজীবী সাগরিকা গোস্বামী। মামলায় রাজ্য সরকার-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। আদালতের কার্যতালিকায় এটি ‘নিউ মোশন’ বা নতুন আবেদন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আইনি পরিভাষায় মামলাটি ‘ম্যান্ডামাস’ বা পরমাদেশ সংক্রান্ত আবেদন হিসেবে দায়ের করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ আইনানুগভাবে জনস্বার্থ রক্ষা করে কাজ করে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করা হয়। আদালতের প্রাথমিক স্ক্রুটিনি পর্বে মামলার বিভিন্ন আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত সরকারি নীতির বিরুদ্ধে এই মামলা ঘিরে কর্মচারী মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২৩ জুনের শুনানিতে আদালত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় কি না কিংবা স্মার্ট মিটার স্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনও পর্যবেক্ষণ করে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডলও স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও প্রযুক্তি বা ব্যবস্থা যদি সত্যিই উপযোগী হয়, তবে সাধারণ মানুষ তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করবেন। জোর করে তা চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, স্মার্ট মিটারের সম্ভাব্য সুবিধার তুলনায় অসুবিধা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বেশি, তাই বাধ্যতামূলক প্রয়োগের পরিবর্তে বিকল্প মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


Share