Swasthya Bhawan

জেলা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার সেন্ট্রাল ল্যাব, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ১০০% অনলাইন রিপোর্ট, ব্যাকটিরিয়া-হিস্টোপ্যাথলজিতেও জোর

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও উন্নত ও জনমুখী করতে এই পদক্ষেপ। জেলা হাসপাতালগুলিতে ল্যাবরেটরি পরিষেবার আধুনিকীকরণ, অনলাইন রিপোর্টিংয়ে স্বচ্ছতা এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি পরিষেবা চালুর লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ভবন থেকে সবিস্তার গাইডলাইন জারি করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০২

রাজ্যের সব ক’টি জেলা হাসপাতালে এ বার চালু হতে চলেছে ২৪ ঘণ্টার সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি পরিষেবা। রোগীদের ভোগান্তি কমাতে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ১০০ শতাংশ অনলাইন রিপোর্টিং এবং এসএমএস পরিষেবা চালুর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। একই সঙ্গে ব্যাকটিরিয়া ও হিস্টোপ্যাথলজির মতো উন্নত পরীক্ষার পরিকাঠামোও গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও উন্নত ও জনমুখী করতে এই পদক্ষেপ। জেলা হাসপাতালগুলিতে ল্যাবরেটরি পরিষেবার আধুনিকীকরণ, অনলাইন রিপোর্টিংয়ে স্বচ্ছতা এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি পরিষেবা চালুর লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ভবন থেকে সবিস্তার গাইডলাইন জারি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এত দিন বহু জেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও কর্মী থাকলেও ল্যাবরেটরি পরিষেবার ক্ষেত্রে তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার হচ্ছিল না। কোথাও পরীক্ষার সংখ্যা কম, কোথাও রিপোর্ট পেতে বেশি সময় লাগছিল। আবার অনলাইন রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রেও ছিল ঘাটতি। এই ব্যবধান দূর করতে টেস্টের সংখ্যা, রিপোর্ট প্রকাশের সময়, অনলাইন পরিষেবা এবং কর্মীদের দক্ষ ব্যবহারে সমতা আনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইন্ডিয়ান পাবলিক হেল্থ স্ট্যান্ডার্ডস এবং ন্যাশনাল হেলথ মিশনের ফ্রি ডায়াগনস্টিক সার্ভিসেস ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জেলা হাসপাতালগুলির ল্যাব পরিষেবাকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘সিঙ্গল সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি’ এবং ‘সিঙ্গল প্রিক পলিসি’ কার্যকর করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্যাথলজি, ইন্টিগ্রেটেড কাউন্সেলিং অ্যান্ড টেস্টিং সেন্টার (আইসিটিসি) এবং ব্লাড ব্যাঙ্কের মতো বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত টেকনিশিয়ানদের এ বার থেকে সুপারিনটেনডেন্টের একক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে কাজ করতে হবে। এর ফলে কর্মীদের সমন্বিত ভাবে কাজে লাগানো যাবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর।

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ম্যানুয়াল রিপোর্টিং সম্পূর্ণ বন্ধ করে ১০০ শতাংশ অনলাইন রিপোর্টিং চালু করতে হবে। পাশাপাশি এসএমএসের মাধ্যমে রোগীর মোবাইল নম্বরে রিপোর্ট পাঠানোর ব্যবস্থাও করতে হবে। যে ইউনিটে রোগীর চিকিৎসা চলছে, সেই ইউনিটের কম্পিউটার সিস্টেমেও যাতে রিপোর্ট সরাসরি পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিনই জরুরি ল্যাব পরিষেবা চালু রাখতে হবে। তার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে পৃথক ডিউটি রস্টার তৈরির নির্দেশ রয়েছে। রিপোর্ট প্রকাশের ক্ষেত্রেও একাধিক স্তরের যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথমে টেকনিক্যাল প্রসেসিং, তার পরে সংশ্লিষ্ট সেকশনের ভেরিফিকেশন এবং সব শেষে ল্যাবরেটরি স্পেশালিস্টের ভ্যালিডেশনের পরেই রিপোর্ট প্রকাশ করা যাবে।

নতুন ব্যবস্থায় জেলা হাসপাতালগুলির ল্যাব পরিষেবায় একই ধরনের মান বজায় রাখা, রিপোর্ট পেতে সময় কমানো এবং জরুরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা নিশ্চিত করাই স্বাস্থ্য দফতরের মূল লক্ষ্য।


Share