Stone Syndicate

পাথর মাফিয়া টুলু মন্ডলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, পুলিশ লাইনে দুই সাব-ইন্সপেক্টরকে ক্লোজ করলেন জেলা পুলিশের সুপার, চলবে বিভাগীয় তদন্ত

গত সপ্তাহে টুলু মন্ডলে ভগ্নিপতি মহম্মদ মিনার মন্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল। বিদেশ থেকে আনা সোনাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। মিনার গ্রেফতার হলেও টুলু মন্ডল পলাতক।

দুই সাব-ইনস্পেক্টরকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করলেন জেলা পুলিশের সুপার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম
  • শেষ আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:১২

বীরভূমের পাথর মাফিয়া নাজিমুদ্দিন মন্ডল ওরফে টুলু মন্ডলের কীর্তি সামনে আসতেই তৃণমূল জমানার লুটের সাম্রাজ্য সামনে এসেছে। এ বার পাথর মাফিয়া টুলু মন্ডলের সঙ্গে সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগে মহম্মদবাজার থানার দুই সাব-ইন্সপেক্টরকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার নির্দেশ দিলেন জেলা পুলিশের সুপার। ক্লোজ হওয়া দু’জন হলেন— সানাউর হোসেন এবং আব্দুল আলিম। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। 

জানা গিয়েছে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই থানায় কর্মরত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে টুলু মন্ডলকে পাথর পাচারের মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টুলু মন্ডলের পাথর সাম্রাজ্য যাতে কোনও ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন‍্য ঘুষের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা পাইয়ে দিতেন। গত সপ্তাহে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত ছাড়া এত বড় সাম্রাজ্য গড়ে উঠতেই পারে না। শীর্ষস্তর থেকে নির্দেশ না গেলে এ ভাবে পাথর পাচার হতে পারত না। এই সাম্রাজ্য যে এক দিনে গড়ে ওঠেনি। এর নেপথ্যে একাধিক প্রশাসনিক কর্তা থেকে আধিকারিক এবং পুলিশের একাংশ যুক্ত রয়েছে তা জানিয়েছিলেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল, এর নেপথ্যে যে বা যুক্ত রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে। এমন কঠোর বার্তার পরেই এই দুই সাব-ইন্সপেক্টরকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হল বলেই মনে করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে টুলু মন্ডলে ভগ্নিপতি মহম্মদ মিনার মন্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল। বিদেশ থেকে আনা সোনাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। মিনার গ্রেফতার হলেও টুলু মন্ডল পলাতক। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় তিনি বিদেশে পালিয়েছেন। রবিবার রাতে টুলুর ম‍্যানেজার সতীশ প্রামাণিককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সতীশ আদতে মুর্শিদাবাদের সালারের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, পাচামির পাথর ক্রাশারগুলির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেখানকার পাথর খাদানগুলির হিসেব এই সতীশের কাছেই থাকত বলে তদন্তকারীদের একটি সূত্র দাবি করেছে। মিনারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই সতীশ প্রামাণিকের নাম উঠে আসে। 

অন‍্য দিকে, মিনারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে টুলু মন্ডলের আরও সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। বিঘার পর জমি সেই সঙ্গে ব‍্যাঙ্কের ৩৪ কোটি টাকার একটি স্থায়ী আমানত ফ্রিজ করেছে পুলিশ। বীরভূমের যে পাঁচটি ডিসিআর গেট রয়েছে তা থেকে দিনে পাঁচ থেকে ছ’কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করার জায়গা থাকলেও ২০১৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত তা হয়নি। ডিসিআর জাল করে রাজস্বের টাকা লোপাট হয়েছে। সেই টাকা জেলার শীর্ষ নেতা, আমলাদের কাছে পৌঁছে যেত বলে দাবি করা হয়েছে।

বীরভূমের টুলু মন্ডলের ৫০০-র বেশি ডাম্পার রয়েছে। আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠদের নামে সেই সংখ্যাটা ৮০০ ছাড়িয়ে যাবে। বীরভূমের পাথর ক্রাশারদের মালিকদের কাছে অঘোষিত নির্দেশ ছিল, টুলুর ডাম্বারই ব‍্যবহার করতে হবে। এই ডাম্পারগুলিতে তেলের যোগান দিতে নিজে দু’টি পেট্রোল পাম্প কিনে নিয়েছিল। তবে এই সব যাবতীয় অভিযোগ খতিয়ে দেখতে টুলুর নাগাল পাওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।


Share