Transport

বেআইনি ভাবে পণ‍্য বোঝাই গাড়ি থেকে টাকা তোলার অভিযোগ রামপুরে, মুখ‍্যমন্ত্রীর নির্দেশে সাসপেন্ড দুই পরিবহণ দফতরের আধিকারিক

গাড়ির মালিক দীপক সিংহ পরিবহণ দফতরের কাছে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরে এমভিআই ইন্সপেক্টর নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড আপিল) রুলস-এর ধারা ৭(১)(এ) অনুযায়ী অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ ০২:৫৭

কয়লাবোঝাই গাড়ি থেকে টাকা তোলার অভিযোগে দু’জন পরিবহণ দফতরের আধিকারিককে সাসপেন্ড করল রাজ্য সরকার। দু’জনই পরিবহণ দফতরের মোটর ভিকেল ইন্সপেক্টর পদে রয়েছেন। পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে পরিবহণ দফতর।

সাসপেন্ড হওয়া দুই এমভিআই ইন্সপেক্টরের নাম নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা দু’জনই ঝাড়খন্ড-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত ছিলেন। জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড থেকে পণ‍্যবোঝাই ট্রাকটি সারাই করে গ্যারেজে ফিরছিল। রামপুর চেকপোস্টের কাছে ট্রাকটিকে আটকানো হয়। সেই চেকপোস্টে কর্তব্যরত এমভিআই ইন্সপেক্টর নাজিমুল এবং অনুপম বেআইনি ভাবে ট্রাকটিকে আটক করে। চালকের কাছ থেকে ২২ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। তা দিতে অস্বীকার করলে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে ট্রাকটিকে আটক করে রাখেন তাঁরা।

এর পরেই গাড়ির মালিক দীপক সিংহ পরিবহণ দফতরের কাছে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরে এমভিআই ইন্সপেক্টর নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড আপিল) রুলস-এর ধারা ৭(১)(এ) অনুযায়ী অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে নিজের সমাজমাধ‍্যমে এই সংক্রান্ত  সংবাদ প্রকাশ‍্যে এনেছেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দু’জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে পরিবহণ দফতর। অভিযোগের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা রুজু এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করতে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তভার রাজ‍্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি)-কে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

ডান্ডাট‍্যাক্স তুলে দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাস্তায় দাঁড়িয়ে পণ‍্যবাহী গাড়ি থেকে টাকা আদায় করা যবে না বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোনও অবস্থাতেই তোলাবাজি বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। সরকার যে কোনও স্তর, দফতর বা সরকারি ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করেছে।

এর পরে প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও সরকারি কর্মী যদি দুর্নীতি, হয়রানি বা অবৈধ অর্থ আদায়ে জড়িত বলে প্রমাণিত হন, তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”


Share