Anubrata Mondal Office Vandalised

বীরভূমের কেষ্ট মন্ডলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, কলার ধরে বসিয়ে দেওয়া হল চেয়ারে, অভিযোগ দুই বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে

সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়টিতে গিয়ে বসছিলেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অনুব্রত মন্ডল। বুধবার বিকেলে সেখানে গাছের ডাল, লাঠি হাতে নিয়ে দু’জন যুবক ঢুকে পড়েন। তাঁদের মুখে কাপড় বাঁধা ছিল ছিল দাবি করা হয়েছে।

বীরভূমে অনুব্রত মন্ডলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিউড়ি
  • শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৬

দলীয় কার্যালয়ের আক্রান্ত গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। ঘরে ঢুকে তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে রেখেই ভাঙচুর চালালেন দুই যুবক। পাঞ্জারির কলারও ধরা হয়। একদা বীরভূমের নেতাকে হুমকি দিতে দিতে ঘরে থাকা চেয়ার-টেবিল থেকে বাতানুকূল যন্ত্র পর্যন্ত ভাঙা হয়েছে। বুধবার বিকেলে সিউড়ির ঘটনা। টেবিলের কাচ ঠিকরে এসে মুখে লেগেছে কেষ্টর। দু’জনই এলাকায় বিজেপির সমর্থক ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়টিতে গিয়ে বসছিলেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অনুব্রত মন্ডল। বুধবার বিকেলে সেখানে গাছের ডাল, লাঠি হাতে নিয়ে দু’জন যুবক ঢুকে পড়েন। তাঁদের মুখে কাপড় বাঁধা ছিল ছিল দাবি করা হয়েছে। তাঁরা বলতে থাকেন, অনুব্রত মন্ডল গত ১৫ বছরে বীরভূমবাসীর ওপর প্রচুর অত্যাচার করেছেন। কেষ্ট মন্ডলকে ‘গরুচোর’ বলে কটাক্ষ করা হয়। কথা বলতে বলতে দুই যুবক কার্যালয়ের ভিতরে থাকা চেয়ার-টেবিল সব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। দুই যুবকের পরিচয় জানা যায়নি। তবে দু’জনই এলাকার স্থানীয় বিজেপি কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে।

কেন এমন করা হচ্ছে বলে অনুব্রত তাঁদের বোঝাতে থাকেন। কিন্তু কোনও কথায় তাঁরা কর্ণপাত করেননি। অনুব্রতকে বলতে শোনা যায়, “আমার একটা কথা শোন।” এক যুবক জবাবে বলেন, “আর একটা কথাও না। ১৫ বছর কত ডায়লগ দিয়েছ, কত অত্যাচার।” এই বলতে বলতেই তাঁর সামনের টেবিলে গাছের ডাল দিয়ে মারেন। কাচ ছিটকে পড়ে কেষ্টর গায়ে লেগেছে। তবে তান্ডেবের মাঝেও তিনি মুখে হাসি ধরে রেখে চেয়ারে বসেছিলেন। এমন কাজ থামতে বলেন আক্রমণকারী দুই বিজেপি কর্মীকে।

অনুব্রতের সঙ্গীরা তখন কার্যত নিরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। আক্রমণকারীদের একজন প্রশ্ন করেন, “লোকগুলোকে কেন মেরে এসেছিলে?” চেয়ারে টানটান হয়ে বসে কেষ্টর জবাব, “কাকে মেরেছি বলো।” পাশের যুবক বলেন, “কী! দেখাব? দেখাব কাকে কাকে মেরেছেন।” মাথা নেড়ে কেষ্ট বলেন, “দেখাও না, দেখাও।”

বচসার মাঝেই একজন বলেন, “এখান থেকে আর বেরোতে দেব না। খুন করলে তো একবারে শেষ...।” অনুব্রত আবার হাত নেড়ে তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুই যুবক ডান্ডা দিয়ে কার্যালয়ের বাকি জিনিসগুলো ভাঙতে থাকেন। আবার অনুব্রকে প্রশ্ন করা হলে আক্রমণকারীদের মধ্যে একজন বলেন, “আপনি এখানে বসেন কী জন্য?” জবাবের অপেক্ষা করেননি তাঁরা। আবার মন ভাঙচুরে দেন দুই বিজেপি কর্মী।

বেশ কিছু ক্ষণ পরে সিউড়ির ওই দলীয় কার্যালয়ে যান। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তারা নিরস্ত্র করে দুই বিজেপির কর্মীকে। বাইরে তাঁদের আরও কয়েক জন সঙ্গীকে দেখা যায়। তাঁরা পুলিশকে বলেন, “এত অত্যাচার করেছে। একে ছেড়ে দেব?” শেষমেশ ওই যুবকদের কার্যালয় থেকে বার করে আটক নিয়ে যায় পুলিশ।


Share