Blast

বড়জোড়ায় ইস্পাত কারখানায় বিস্ফোরণ, গলিত লোহা ছিটকে এসে লাগল গায়ে, গুরুতর জখম তিন শ্রমিক

শ্রমিকদের অভিযোগ, ইস্পাত গলানোর মেশিনের নীচে গ্যাস লিকের জেরেই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ম্যানেজমেন্টের দাবি, সেফটি প্রোটোকল মেনেই কাজ করা হয়।

কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৬:২৯

বাঁকুড়ার বড়জোড়ার ঘুটগোড়িয়া শিল্প তালুকের একটি ইস্পাত কারখানায় বৃহস্পতিবার ভোরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় তিন শ্রমিক গুরুতরভাবে ঝলসে জখম হয়েছেন। তাঁদের প্রথমে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ কারখানার ভিতরে আচমকাই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সেই সময় ইস্পাত তৈরির কাজে বেশ কয়েক জন শ্রমিক ব্যস্ত ছিলেন। বিস্ফোরণের পর শ্রমিকের শরীরে গলিত লোহা ছিটকে পড়ে। গুরুতর জখম হন বড়জোড়ার হাট-আশুড়িয়ার বাসিন্দা জীবন ঘোষ বাউড়ি, দুর্গাপুরের বাসিন্দা শিবশঙ্কর রায় এবং বিহারের রাজেশ কুমার সিং।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনজনকেই দুর্গাপুরের হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

কারখানার এক শ্রমিক সুমন্ত মণ্ডলের দাবি, ইস্পাত গলানোর মেশিনের নীচের অংশ থেকে গ্যাস লিক হচ্ছিল। ফার্নেসে লোহা গলানোর সময় আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। গলিত লোহা ছিটকে শ্রমিকদের গায়ে লাগে। তবে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও প্রশাসন।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা কারখানায় পৌঁছোন। দুর্ঘটনাকে ঘিরে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, কারখানায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। নিজস্ব অ্যাম্বুল্যান্সও নেই। এর আগেও ওই কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের দাবি।

যদিও শ্রমিকদের অভিযোগ মানতে নারাজ কারখানা কর্তৃপক্ষ। ম্যানেজমেন্টের দাবি, কারখানায় অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট সেফটি প্রোটোকল মেনেই কাজ করা হয়। তবে দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে আরও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।


Share