Child Death

ছুটির দিনে চিকিৎসক নেই! মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে সদ্যজাতের মৃত্যু, গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের, হাসপাতালে উত্তেজনা, তদন্তের নির্দেশ

প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় চিকিৎসক না আসার অভিযোগ পরিবারের। মৃত সন্তানের জন্মের পর হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম
  • শেষ আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১২:১০

সদ্যোজাতের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে উত্তেজনা ছড়াল বীরভূমের মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে। পরিবারের অভিযোগ, প্রসব যন্ত্রণা ওঠার পর দীর্ঘ সময় কেটে যায়। কিন্তু কোনও চিকিৎসক দেখতেই আসেনি। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় মুরারই থানার গাঙ্গাড্ডা গ্রামের বাসিন্দা শাহিনা খাতুনের প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরিবারের দাবি, রাতে প্রসব যন্ত্রণা আরও বাড়ে। কিন্তু সেই অবস্থাতেই ওই মহিলা পড়ে ছিলেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনও চিকিৎসক তাঁকে দেখতেই আসেননি।

এর পরে শনিবার কর্তব্যরত নার্সেরা শাহিনাকে লেবার রুমে নিয়ে যান। তিনি সেখানেই মৃত সন্তানের জন্ম দেন। এর পরই পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল চত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসক ও কর্তব্যরত নার্সদের গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। কোনও রকমে সেই পরিস্থিতি সামল দেওয়া সম্ভব হয়। 

পরিবারের আরও অভিযোগ, শুধু চিকিৎসা পরিষেবা নয়, হাসপাতালের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে ছাগল, কুকুর ও বিড়াল অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিরাপত্তার ব্যবস্থাও কার্যত নেই বলে অভিযোগ। কোনও নিরাপত্তারক্ষীরও দেখা নেই। 

ঘটনার পর চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার তদন্ত করা হবে। মুরারইয়ের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অভিজিৎ মণ্ডল জানিয়েছেন, তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।


Share