Allegation on BJP

‘চার মাসে তৃণমূলকে ছাপিয়ে যাবে বিজেপি’, সার্কিট হাউসে বসে কয়লার রেট ফিক্স করেছে রাজ‍্যের মন্ত্রীপুত্র কেশব পোদ্দার, বিস্ফোরক অভিযোগ কংগ্রেসের

জেলার এক কংগ্রেস নেতা বলেন, “তৃণমূল জমানায় প্রাক্তন বিধায়ক হরেরাম সিংহের ছেলে প্রেমপাল সিংহের দাপট ছিল। বিজেপির জমানায় মন্ত্রীপুত্র কেশব পোদ্দারকে মানুষ দেখেছে।”

(বাঁ দিক থেকে) রাজ‍্যের মন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দার এবং তাঁর ছেলে কেশব পোদ্দার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল
  • শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫৭

কে বরাত পাবে, কত টাকা রেট হবে— তা ঠিক করছে রাজ‍্যের মন্ত্রীপুত্র। এমই একটি অডিয়ো প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। রাজ‍্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর মন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দারের ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে কংগ্রেস। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি টাকায় বানানো সার্কিট হাউসে বসেই কয়লার রেকের নিয়ন্ত্রণ কে করবে, রেট কী হবে, কে কাজের বরাত পাবে, তা ঠিক করছেন মন্ত্রীপুত্র কেশব পোদ্দার। কংগ্রেসের বক্তব্য, চার মাসেই তৃণমূলকে এ ভাবে ছাপিয়ে যাবে বিজেপি। রাজ্যের মানুষ চোর তাড়াতে চেয়েছিল। ডাকাত এসে বসে গেল।

শনিবার পশ্চিম বর্ধমানের জেলা কংগ্রেসের নেতারা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁরা একটি অডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, ওই অডিয়ো ক্লিপ মন্ত্রীপুত্র কেশব পোদ্দার এবং রহিত নুনিয়া বলে একজনের। ‘এখন কলকাতা’ এই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি। তাতে শোনা যাচ্ছে, রোহিত প্রথমে একটি নম্বরে ফোন করে। সেই ফোনটি রাজ্যের মন্ত্রী অজয় পোদ্দারকে করা হয়। মন্ত্রীর কাছে তাঁর দাবি, কোলিয়ারিতে পাঁচটি র‍েক রয়েছে। সেখানে কাজ বাধা দেওয়া হচ্ছে। সেই সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বলছেন। মন্ত্রীর বক্তব্য, তিনি কলকাতা রয়েছেন। তাই এই বিষয়ে তাঁর ছেলে কেশব পোদ্দারের সঙ্গে কথা বলতে বলছেন।

রোহিত এর পরের ফোনটি করেছেন মন্ত্রীপুত্র কেশব পোদ্দারকে। তিনি কেশবকে বলছেন, “আপনার লোকেরা কাজে বাধা দিচ্ছে। মেশিন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। অফিসে তালা মেরে দেবে বলছে।” এর উত্তরে কেশব বলছেন, “তুমি একটা সাইটে কাজ কর। সব সাইটে গেলে তো অসুবিধা হবে। সবাইকে কাজ করতে দিতে হবে।” তখন রোহিত বলছেন, তাঁর তো কাজের ওয়ার্ক ওর্ডার আছে। তা শেষ না হলে কী করে সম্ভব? কেশব বলছে, “আপনার লোকেদের কথার কোনও দাম নেই।” তার উত্তরে রোহিত নুনিয়া বলেছেন, “অজয়বাবু মন্ত্রী আছেন। আমরা তাঁর সাথেই আছি। তা হলে কেন এত বাধা দেওয়া হচ্ছে।”

রোহিতের এর পরেই মন্ত্রীপুত্র কেশবকে বৈঠক করার জন‍্য প্রস্তাব দেন। বলেন, “কী করতে হবে?” পাল্টা কেশব পোদ্দার বলেন, “সবাইকে কথা দিয়েছি। কাজ দিতে হবে।” রোহিত বলেন, “আমি আপনার সাথে বসে সমস‍্যা মেটাব। আপনার সাথে কাজ করব। আপাতত আমার কাজে বাধা দয়া সব করে দেবেন না।” এর পরেই রোহিতকে মন্ত্রীপুত্র সার্কিট হাউসে আসার জন‍্য বলছেন। সেখানে যদি না হয় তা হলে হিন্দুস্থান হোটেলে আসার জন্য বলছেন।

জেলা কংগ্রেসের বক্তব্য, রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের ছেলে আসানসোল-কুলটির কয়লা বেল্টে কে বরাত পারবে, রেট কী হবে তা ঠিক করছেন। মন্ত্রী নিজেই এই বিষয়ে তাঁর পুত্র কেশরের সঙ্গে কথা বলার জন‍্য বলছেন। আসানসোলের মানুষ এই কয়লার রেক নিয়ে অতিষ্ঠ। দুষণ ছড়াচ্ছে। এই নিয়ে আগেও রেল, জেলাশাসক, ইসিএলের জানানো হয়েছে। কোনও সুরাহা হয়নি। কয়লার প্রতি টনে রেট কি হবে তা ঠিক করতে কয়লা মাফিয়াদের সার্কিট হাউসে ডাকা হচ্ছে। সার্কিট হাউস মানুষের ট‍্যাক্সের টাকায় তৈরি। তা হলে সেখানে বলে কী ভাবে এমন অবৈধ কাজ করা যায়, তা নিয়েও কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছেন।

জেলার এক কংগ্রেস নেতা বলেন, “তৃণমূল জমানায় প্রাক্তন বিধায়ক হরেরাম সিংহের ছেলে প্রেমপাল সিংহের দাপট ছিল। বিজেপির জমানায় মন্ত্রীপুত্র কেশব পোদ্দারকে মানুষ দেখেছে।” কেশবকে ‘প্রেমপাল সিংহ-২’ বলে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের অভিযোগ, “তিনিও এলাকায় কখনও কখনও লালবাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করেন। বাবার ক্ষমতাকে সামনে রেখে এ সব করছেন তিনি। মাফিয়াদের পকেটে তোলাবাজি হচ্ছে।”

ওই নেতা আরও বলেন, “আগে বালির গাড়ি থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পকেটে যেত। এখন তা সাড়ে আট হাজার টাকা হয়েছে। এখন টাকাটা যাচ্ছে কোথায়? কোথায় পুলিশ? মাফিয়াদের হোটেলে ডেকে মিটিং করছে। টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক হচ্ছে। পুলিশ নিরব। তৃণমূল যা করেছে বিজেপি তা চার মাসেই তাদের ছাপিয়ে গিয়েছে।”

এই বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যাহাই তৃণমূল তাহাই বিজেপি। শুধু রঙের পরিবর্তন হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। কয়লা পাচার বন্ধ হয়নি। মানুষ তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছে। বিজেপিকে সুযোগ দিয়েছে। কংগ্রেসকে দেয়নি। আমরা ক্ষমতায় এলেই এ সব আগে বন্ধ করব। কারা ক্ষমতায় বসেছে, এই চার মাসে মানুষ টের পেয়েছে।”

যদিও বিজেপি নেতা কেশব পোদ্দারের বক্তব্য, “এই অডিয়ো নতুন না পুরোনো জানি না। আদৌ এই অডিয়োটি কার জানি না।”

নেতাদের তোলাবাজি বন্ধ করতে বিধায়কদের সতর্ক করেছিলেন সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। কয়েক জন বিধায়ক রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের রোষানলে পড়তে হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে অডিয়ো ক্লিপ ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করে কি না তা-ই দেখার।


Share