Coal Syndicate

দলীয় কার্যালয় থেকে ইসিএলের নথিপত্র এবং কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে পুলিশের জালে বিধায়কপুত্র, অন্ডাল থেকে ধৃত প্রেমপাল

উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির ঠিকানা ও তারিখ নিয়ে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ‘ভুয়ো ভোটার’ ও ‘ডাবল ভোট’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিজেপি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্ডগুলি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০১:০৯

গ্রেফতার জামুড়িয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হরেরাম সিংহের ছেলে প্রেমপাল সিংহ। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কয়লা ও বালি পাচারের অভিযোগ রয়েছে। দেড় মাস আগে জামুড়িয়া থানার পুলিশ তাঁর বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে ইস্টার্ন কোলফিল্ডের নথিপত্র এবং কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করে। সেই ঘটনায় প্রাক্তন বিধায়কপুত্র প্রেমপাল সিংহকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, গত ১ জুলাই জামুড়িয়ার বহুলা এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হরেরাম সিংহের বাড়ির সংলগ্ন একটি দলীয় কার্যালয়ে জামুড়িয়া থানার পুলিশ অভিযান চালায়। সেখান থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র উদ্ধার হয়। পুলিশের দাবি, সেই কাগজপত্র ইস্টার্ন কোলফিল্ড সংক্রান্ত তথ্য ছিল। এ ছাড়াও, ৮০ রাউন্ড ব‍্যবহৃত ক‍ার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই ঘটনার পরেই থানায় এফআইআর দায়ের হয়। তার পর থেকেই প্রেমপাল সিংহ এলাকা ছেড়ে পালায় বলে পুলিশ দাবি করে।

পুলিশ সূত্রের খবর, গোপন সূত্রে তাঁদের কাছে খবর আসে বিধায়কপুত্র প্রেমপাল সিংহ অন্ডাল বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। সেখানে অভিযান চালায়। বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় থেকে পুলিশ প্রেমপালকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে, বেআইনি ভাবে কয়লা, বালি এবং সংঘটিত সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে। ধৃতকে শুক্রবার আসানসোল আদালতে হাজির করানো হবে। 

তৃণমূল এলাকায় বাহুবলী হিসেবে পরিচিত ছিল এই প্রেমপাল সিংহ। বাবা হরেরাম সিংহের বিধায়ক পদকে পুঁজি করেই তাঁর এই প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়। নিজের গাড়িতে লালবাতি জ্বালিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে আসানসোলের গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি জামুড়িয়ার তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিংহকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, প্রেমপাল যেন এলাকায় গাড়িতে লালবাতি না জ্বালিয়ে দাপাদাপি না করে। সাইরেন না বাজিয়ে ঘোরার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কিন্তু তার পরেও তা হয়নি। পালাবদলের পরেও বেপরোয়া ছিলেন প্রেমপাল— এলাকাবাসী এমনই অভিযোগ করেছেন। এর পরেই পুলিশ পদক্ষেপ করে। এই ঘটনার আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে তা জানতে প্রেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


Share