Fire Incident

তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ন’জনের মৃত্যু, এ বার গ্রেফতার মালিকের বাবাও, নিখোঁজদের খোঁজে পুকুরে নামল ডুবুরি

সোমবার গভীর রাতে তারাপীঠ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এর আগে হোটেল মালিক তথা তাঁর ছেলে কল্যাণ পালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ডুবুরি নামিয়ে চলছে তল্লাশি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তারাপীঠ
  • শেষ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫১

তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ বার গ্রেফতার করা হল হোটেল মালিকের বাবা প্রবীর পালকেও। সোমবার গভীর রাতে তারাপীঠ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এর আগে হোটেল মালিক তথা তাঁর ছেলে কল্যাণ পালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, বাবা-ছেলে মিলেই তারাপীঠের ওই হোটেলটি পরিচালনা করতেন।

অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ন’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে পাঁচ জনই মেঘালয়ের বাসিন্দা। আগুন লাগার ঘটনায় হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এ দিকে, হোটেলে থাকা আবাসিকদের একাংশের অভিযোগ, পিছনের দিকের একটি দরজা বন্ধ থাকায় আগুন লাগার পর তাঁরা বেরোতে পারেননি। ওই দরজা কেন বন্ধ ছিল এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় সেটিই বা কী ভূমিকা নিয়েছিল, তদন্তকারীরা সেই অভিযোগও তদন্ত করে দেখছেন।

তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তকারীরা হোটেল সংলগ্ন একটি পুকুরেও তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্রের খবর, সোমবার অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে আবাসিক-সহ মোট ৪৩ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২২ জনকে প্রাথমিক ভাবে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মধ্যে ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের বেশির ভাগের সন্ধান মিললেও এখনও কয়েক জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের কেউ আগুনের আতঙ্কে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না, কিংবা পুকুরে কারও দেহ পড়ে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই তদন্তকারীরা জলাশয়ে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে ডুবুরি নিয়ে যায়। হোটেল সংলগ্ন পুকুরে ডুবুরি নামিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে তদন্তকারীদের তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তারাপীঠ মন্দিরের পাশে, থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বেই হোটেল ‘বিদেশিনী’। সোমবার ভোরে আচমকাই ওই হোটেলে আগুন লাগে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। হোটেল সূত্রে দাবি, ফাইবারের অন্দরসজ্জায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পর বদ্ধ ঘরে থাকতে না পেরে অনেক আবাসিক বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। হোটেলের পিছন দিকে বেরোনোর জন্য একটি নিরাপদ রাস্তা থাকলেও অধিকাংশ পুণ্যার্থী সেটি সম্পর্কে জানতেন না। আগুনের জেরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে হোটেলের দিক নির্দেশক চিহ্নগুলিও অন্ধকারে দেখা যায়নি। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই সামনের দিকে রিসেপশনের দরজা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেই বিপদ আরও বাড়ে। কারণ আগুনের তীব্রতা ছিল রিসেপশন সংলগ্ন এলাকায়। ফলে বাইরে বেরোতে গিয়ে বহু আবাসিক ঝলসে যান।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই তারাপীঠ ও রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিনও সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বেশ কিছু ক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। দমকলকর্মীরা হোটেলের ভিতর থেকে বেশ কয়েক জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

সূত্রের খবর, আগুনে ঝলসে মৃতদের মধ্যে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন শিশু। জানা গিয়েছে, ওই পরিবারটি হোটেলের সবচেয়ে উপরের তলায় ছিল। আগুন লাগার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে নীচে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু নীচে নামার সময় তাঁরা আগুনের কবলে পড়েন। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পাঁচ সদস্যের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।


Share