Inspector Jayanta Paul

বাঁকুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু ইনস্পেক্টর জয়ন্ত পালের! দুর্ঘটনা না আত্মহত্যা? ধন্দে পুলিশ, ২০২৫ সালে হাওড়ায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি

হাওড়ার ঘটনার পরে সাসপেন্ড হন জয়ন্ত পাল। পরবর্তীতে তাঁর ওপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার হয়। পাঠানো হয় বাঁকুড়ায়। বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে জিআইবির ইন্সপেক্টর পদে ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁরই দেহ উদ্ধার করা হয়।

ইন্সপেক্টর জয়ন্ত পাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০২:১৭

বাঁকুড়ার ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হল রাজ্য পুলিশের ইন্সপেক্টর জয়ন্ত পালের। লাইনের পাশে তাঁর ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার হয়ে। দুর্ঘটনা না কি আত্মহত্যা তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত বছর হাওড়ায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জয়ন্ত পাল। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজে নিয়ে গিয়েছে। 

পুলিশ সূত্রের খবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া শহরের কেঠারডাঙা রেলগেটের কাছে ওই ইনস্পেক্টরের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরণ্যক এক্সপ্রেসের চাকায় কাটা পড়েন জয়ন্ত। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ট্রেনে কাটা পড়েই তাঁর মৃত্যু হতে পারে। তবে লাইন পারাপার করার সময় দুর্ঘটনা না কি তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে পুলিশ। জয়ন্তের মানসিক পরিস্থিতি কেমন ছিল তা নিয়ে পরিবারের সদস্য এবং সহকর্মীদের কাছে জানতে চায় পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন‍্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। শনিবার তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে।

২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাওড়ার ঘোষপাড়া পেট্রল পাম্পের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তৎকালীন চন্ডীতলা থানার ওসি জয়ন্ত পাল। জয়ন্তের বাঁ হাতে গুলি লেগেছিল। ঘটনাস্থলে একটি গাড়ি পাওয়া যায়। ওই গাড়িটিকে আটক করা হয়েছিল। ঘটনার সময় ওই আধিকারিকের সঙ্গে এক মহিলা ছিলেন। ঘটনাস্থলে তরুণীর উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল রহস্য। তার পরেই চর্চায় উঠে আসেন জয়ন্ত পাল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, তরুণীর হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকার বাসিন্দা। তরুণীর সঙ্গে সমাজমাধ্যমে আলাপ হয়েছিল জয়ন্তের। স্থানীয়েরা দাবি করেন, জয়ন্ত এবং তাঁর সঙ্গিনীকে প্রায়ই মঠের উল্টো দিকে একটি বহুতলের ফ্ল্যাটে আসতে দেখা যেত। 

অন্য দিকে, তরুণীর মায়ের দাবি ছিল, তাঁর মেয়ে জয়ন্তকে চেনেন না। যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছিল, যে সময়ে ঘটনাটি ঘটেছিল সেখানে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। সেই সময় আরও তিনজন ছিলেন তাঁর সঙ্গে।

বিতর্কি ছড়িয়ে পড়তে পরে জয়ন্তকে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করে রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশের তৎকালীন এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম নির্দেশিকা জারি করে জয়ন্তকে সাসপেন্ড করার কথা জানিয়েছিলেন। রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, থানা থেকে বেরোলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে যাওয়াই নিয়ম। জয়ন্ত সেই সময় তা করেননি। কাউকে কিছু না-জানিয়েই কর্তব্যরত অবস্থায় চণ্ডীতলা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন পাশের জেলায়।

পরবর্তীতে তাঁর ওপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার হয়। পাঠানো হয় বাঁকুড়ায়। বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে জিআইবির ইন্সপেক্টর পদে ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁরই দেহ উদ্ধার করা হয়।


Share