Murder Case

তন্ত্রসাধনার জেরেই কি শিশুহত্যা? পুরুলিয়ায় নাতিকে কুয়োয় ফেলে খুনের অভিযোগ দাদুর বিরুদ্ধে, গ্রেফতার অভিযুক্ত

প্রথমে এক প্রতিবেশী যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তবে তদন্তে নতুন মোড় আসতেই পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডিতে দেড় বছরের শিশুমৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করা হল তার দাদু রাজেন প্রামাণিককে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া
  • শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৩০

বাড়ির পাশের কুয়ো থেকে উদ্ধার হয়েছিল দেড় বছরের শিশুর দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘুমন্ত নাতিকে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুয়োয় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দাদুর বিরুদ্ধে। প্রথমে সন্দেহের তির ছিল এক প্রতিবেশী যুবকের দিকে। শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারও করে। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বদলেছে ঘটনার মোড়। শেষ পর্যন্ত শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দাদুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম রাজেন প্রামাণিক। পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। 

কয়েক দিন আগে বাড়ির কাছের একটি কুয়ো থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার হয়। কী ভাবে তার মৃত্যু হল, তা নিয়ে তৈরি হয় রহস্য। শিশুটির মায়ের অভিযোগ ছিল, পুরনো বিবাদের জেরে এক প্রতিবেশী যুবক তাঁর সন্তানকে কুয়োয় ফেলে দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ওই যুবককে গ্রেফতার করে।

তবে তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা শিশুমৃত্যুর সঙ্গে ধৃত যুবকের কোনও যোগসূত্র খুঁজে পাননি। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ কুকুর নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তের সূত্র ধরে শিশুটির দাদু রাজেন প্রামানিকের নাম সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে। তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে তদন্তকারীরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরার সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় উঠে এসেছে, ঘুমন্ত অবস্থায় নাতিকে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুয়োয় ফেলে দেন রাজেন। জলে ডুবে মৃত্যু হয় শিশুটির। তবে কেন তিনি এমন ঘটনা ঘটালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই পরিবারে আগেও শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। বাড়িতে তন্ত্রসাধনার চল রয়েছে বলেও তদন্তকারীরা খবর পেয়েছেন। রাজেন নিজেই ওই বাড়িতে তন্ত্রসাধনা করতেন বলে জানা গিয়েছে। তন্ত্রসাধনার সঙ্গে শিশুমৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানতেও তদন্ত চলছে।


Share