TMC Leader

হারের পরেও তৃণমূল নেতাদের প্রভাব অব‍্যাহত! সরকারি বাংলো এখনও ছাড়েননি রাজ‍্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, উঠছে প্রশ্ন

তৃণমূল জমানায় দখল করে রাখা বাংলো এখনও ছাড়েননি প্রাক্তন মন্ত্রী। তালিকায় রয়েছে মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ আরও এক তৃণমূল নেতা। দুর্গাপুরের ঘটনা। বিগত কয়েক বছরে জমা পড়েনি কোনও বিল।

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর
  • শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ০২:৫৩

নিজের রাজনৈতিক পদ দেখিয়ে সরকারি বাংলো নিয়েছিলেন। জেলা সফরে গেলে রাজ্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার ওই বাংলোতেই থাকতেন। দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভায় বিজেপির কাছে তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন। তার পরেও তিনি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সুসজ্জিত সরকারি বাংলো ছাড়েননি। তিনি শুধু একা নন, এই তালিকায় রয়েছেন, এসবিএসটিসির চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডলও। এর ফলে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার প্রশাসনিক কর্তারা বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের মতে, তাঁদের সংস্থায় ভিনরাজ‍্য থেকে অনেকেই কাজ করতে আসেন। তাঁদেরকে বাংলো বরাদ্দ করা যাচ্ছে না।

অ‍্যান্ড্রুস প্লেসে রাজ‍্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এবং এসবিএসটি-র চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডল জিএসপির বাংলো পেয়েছিলেন। ভোটে ভরাডুবির পরেও প্রাক্তন মন্ত্রীর বাংলোর গেটে সবুজ রঙের ফলক এখনও জ্বলজ্বল করছে। আর এসবিএসটিসি-র চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডলের বাংলোর গেটে লাগানো ফলক বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

বুধবার সকালে ওই দুটি বাংলোয় যাওয়া হলে প্রাক্তন মন্ত্রী বা এসবিএসটিসি-র চেয়ারম্যানের দেখা মেলেনি। দেখা যায়, সেখানে তাঁদের বাংলোর পরিচারক, নিরাপত্তারক্ষী এবং দেহরক্ষীরা বসবাস করছেন। দু’টি বাংলোর পরিচারকরা জানাচ্ছেন, ভোটে হেরে যাওয়ার পরে তাঁরা কেউই সেখানে আসেননি।

জানা গিয়েছে, গত চার বছর ধরে তৃণমূল জমানায় রাজ‍্যের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার ডিএসপি-র আধিকারিকদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে বাংলোকে বিলাসবহুল রূপ দিয়েছেন। ঘরের ভিতরে রংকারির টাচআপ করা হয়েছে। অত্যাধুনিক রং করে প্রতিটি ঘরে দেওয়াল সজ্জিত করে তোলা হয়েছে। পুরোনো জানালা, দরজা ভেঙে নতুন করে বানানো হয়েছে। প্রতিটি ঘরে নতুন করে টাইলস বসানো হয়েছে। বাড়তি খরচ করে অতিরিক্ত ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি বাথরুমে নতুন আধুনিক ব্যবস্থায় সজ্জিত করা হয়েছে। মন্ত্রীমশাইয়ের থাকবেন বলে তার গোটা খরচই ডিএসপি বহন করেছে। যদিও এই বাংলোয় তাঁর পরিবারের কেউই খুব একটা বেশি আসতেন না। বেশিরভাগ সময়ই দেহরক্ষী, নিরাপত্তারক্ষী এবং তৃণমূলের কর্মীরা থাকতেন। এমনকী, নির্বাচনের সময় গোটা দফতরকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রদীপ। পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন দফতরের কর্মীদের প্রায় একমাসের বেশি সময় ধরে সেখানে রেখে দলীয় কাজ করিছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে এই প্রবীণ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।

রাজ্যের মন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকা এসবিএসটি-র চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডলও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ডিএসপির থেকে বাংলো হাতিয়ে নিয়েছেন। এ দিকে এ-জোনের কনিস্ক রোডে গত ১০ বছর ধরে একটি বাংলো এসবিএসটি দখল করে রেখেছে। সেখানে বহিরাগতরা এসে থাকছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, সুভাষ মন্ডলও বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট আশা করেছিলেন। কিন্তু বীরভূমে কেষ্ট মন্ডলের জন‍্য সেই কামনা আর পূর্ণ হয়নি। 

তৃণমূল কর্মীদের একাংশ এ-ও দাবি করে, মন্ত্রীর হাত মাথায় থাকায় ভাতার থেকে দুর্গাপুরে এসে জুড়ে বসেছিলেন এই সুভাষ মন্ডল। দুর্গাপুরের এ-জোনের ক‍্যাটেগরি-৮-এর বাংলো বাড়িতে গেড়ে বসেন তিনি। সেই বাংলো আজও হাতছাড়া করেননি। এই বিষয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

অন‍্য দিকে, ডিএসপি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বাংলো ছেড়ে দেওয়ায় নোটিস পাঠায়। উচ্ছেদ করে দেয়। বিদ‍্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাঁরা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউ ফোন তোলেননি। যদিও এই সমস্ত প্রভাবশালী নেতারা পরে কলকাতা বা দিল্লিতে চলে গেলেও দুর্গাপুরে একটি করে বাংলো রেখে দেন। ডিএসপি-র কাছে ওই সমস্ত বাংলোর জল, পরিচর্যা বা বিদ‍্যুতের বিল জমা পড়ে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।


Share