Asis Banerjee

‘রাজনীতিতে আসাই ভুল হয়েছে,’ দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার রাজ‍্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ, উদ্ধার সুইসাইড নোট

রবিবার সকালে বীরভূমের রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ার নিজের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে রাজ‍্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়।

আত্মঘাতী প্রাক্তন মন্ত্রী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম
  • শেষ আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:৩৩

রামপুরহাটের দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার রাজ‍্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ। তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়”। পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতে আসা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। পরিবারের কাউকে রাজনীতিতে না জড়ানোর জন‍্য পরামর্শ দিয়েছেন।

রবিবার সকালে বীরভূমের রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ার নিজের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে রাজ‍্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। কী ভাবে মৃত্যু তা এখনও স্পষ্ট নয়। রবিবার দেহের ময়নাতদন্ত হলে তা নিশ্চিত হতে পারবে পুলিশ। এলাকায় ব‍্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। তাতে প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেছেন, তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। দলের অন‍্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও কখনও তার প্রতিবাদ করতে পারেননি। তিনি লিখেছেন, “ছাত্রাবস্থা থেকেই আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। সেখানেও কোনও দুর্নীতি সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। অনেক রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডা হয়েছে। কখনই তা শত্রুতার রূপ নেয়নি। দলের অন‍্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও কখনও প্রতিবাদ করিনি। সারা জীবনে একটি পয়সাও কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি।”

তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (টিআরডিএ)-তে তাঁর তেমন কোনও ক্ষমতা ছিল না বলেই আশিস সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ, তাঁকে ছোট করার জন‍্য অনেক কিছু করা হয়েছে। সেই প্রচেষ্টাকে ধিক্কার জানিয়ে আশিসের উপলব্ধি রাজনীতিতে আসাই তাঁর ভুল হয়েছে। তিনি লিখেছেন, “টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব আমার ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমার প্ল‍্যান পাস বা মো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়ার বিষয়ে ছিলাম না। কেউ এই বিষয় নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করেনি। কিন্তু আমাকে অপমান করার জন‍্য যা সব করা হল, সেটাকে ধিক্কার জানাই। তাই আজ মনে হচ্ছে রাজনীতিতে আসাই ভুল হয়েছে। তাই আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতিতে না আসার জন‍্য পরামর্শ দিচ্ছি। তাঁরা নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাক”

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি শিক্ষক ছিলেন। মৃত‍্যুর আগে লেখা চিঠিতে ছাত্রছাত্রীদের স্মরণ করেছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সুইসাইড নোটে লেখা আছে, “সারা জীবন শিক্ষকতা করেছি। কোনও ক্লাস ফাঁকি দিইনি। ছাত্রছাত্রীদের স্পেশাল ক্লাস নিয়েছি। অনেক ছাত্রছাত্রীকে বিনা পয়সায় পড়িয়েছি। অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।” পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এই মৃত্যুর জন‍্য কেউ দায়ী নয় বলেও দাবি করেছেন। চিঠিতে কারও নাম করে তিনি কিছু অভিযোগ করেননি। কার জন‍্য তিনি অপমানিত হয়েছেন তা-ও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেননি।

রামপুরহাটের পাঁচ বারের বিধায়ক ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। আশিস ২০০১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। মমতার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন। তিনি রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারও হয়েছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিধানসভার এই পদে তিনি ছিলেন। ২০২৬ সালেও মমতা তাঁকে রামপুরহাট থেকে টিকিট দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বিজেপির প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন। ২৪ হাজারের বেশি ভোটে তিনি হেরে যান। তার পর থেকে আর সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি তাঁকে।

এই ঘটনা নিয়ে বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, “অত‍্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। এই ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। জীবনের শেষ লগ্নে এসে তিনি এমন কেন সিদ্ধান্ত নিলেন তা পুলিশের খতিয়ে দেখা উচিত। জেলায় দুর্নীতির তদন্ত চলছে তার সঙ্গে এর কোনও যোগ আছে কি না তা তদন্তের আওতায় আনা উচিত।” এই চিঠিটি আশিসের লেখা কি না, কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল তা পুলিশ দেখছে।


Share