Coal Scam

ইসিএলের কয়লা চুরির টাকায় কেনা হয়েছে বাঁকুড়া-পুরুলিয়ায় রিসর্ট, আরও ১৩৬.৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে, অনুপ মাঝি ওরফে লালার ওই সিন্ডিকেট অবৈধ ভাবে কয়লা উত্তোলন করত। বিপুল পরিমাণ কয়লা চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিল ওই সিন্ডিকেট।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪১

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) লিজ এলাকায় ব্যাপক অবৈধ কয়লা খনন ও কয়লা চুরির ঘটনায় ১৩৬.৪৪ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আর্থিক তছরুপ মামলায় এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অনুপ মাঝি ওরফে লালার নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ কারবার চালাত।

ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে, অনুপ মাঝি ওরফে লালার ওই সিন্ডিকেট অবৈধ ভাবে কয়লা উত্তোলন করত। বিপুল পরিমাণ কয়লা চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিল ওই সিন্ডিকেট। পরে সেই কয়লা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কারখানায় নগদ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হতো। এই কারবারে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু আধিকারিক সক্রিয় ভাবে সাহায্য করেছিলেন বলেও ইডি দাবি করেছে।

এই অবৈধ কারবার থেকে উপার্জিত অর্থের উৎস ও মালিকানা আড়াল করতে অনুপ মাঝি একাধিক ভুয়ো সংস্থা অধিগ্রহণ করেন। সেগুলি পরিচালনা করতেন। সংস্থাগুলি তাঁর আত্মীয়স্বজন, কর্মচারী এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী গুরুপদ মাঝির নামে থাকলেও, প্রকৃতপক্ষে সেগুলির সুবিধাভোগী মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল অনুপ মাঝির হাতেই ছিল বলে ইডি দাবি করেছে। চুরির কয়লা বিক্রি থেকে পাওয়া নগদ টাকা বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হিসাবের খাতায় কৃত্রিম লেনদেন দেখিয়ে ওই সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই উপায় অবলম্বন করে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও ইডি জানিয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, চুরির কয়লা বিক্রি করে উপার্জন করা অর্থ অনুপ মাঝি বিভিন্ন রিসর্টেও বিনিয়োগ করেছিল। ইডি জানিয়েছে, পুরুলিয়ার ‘গড় পঞ্চকোট ইকো ট্যুরিজম’ হোটেল-কাম-রিসর্ট, বাঁকুড়ার ‘বিহারীনাথ ইকো ট্যুরিজম’ হোটেল-কাম-রিসর্ট, কলকাতার দু’টি সম্পত্তি, ভুয়ো সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ, এবং অনুপ মাঝির পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ।

এর আগে এই একই মামলায় একাধিক নির্দেশের মাধ্যমে ৬৭৮.৬৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। এ বার আরও ১৩৬.৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হল। কয়লাপাচার মামলায় মোট বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াল ৮১৫.০৮ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও, অর্থ পাচার চক্রের বিভিন্ন স্তর উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে বলে ইডি জানিয়েছে। অপরাধলব্ধ অর্থের চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের সন্ধান এবং অবৈধ কয়লা খনন ও কয়লা চুরির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তি ও সংস্থাকে চিহ্নিত করতে তদন্ত এখনও চালাতে চায় ইডি।


Share