Bus Association

দুর্গাপুরে টোটোর দাপটে অস্তিত্বের সংকটে মিনিবাস! প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন মালিকরা, কালীপুজোর পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাস মালিকরা। এ বার কালীপুজোর পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিলেন বাস মালিক সংগঠনের কর্তারা

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:১১

পরিবহণ দফতরের নির্দেশিকাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুর্গাপুরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে টোটো। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাসরুটে টোটোর অবাধ চলাচলে ক্রমশ অস্তিত্বের সংকটে পড়ছে মিনিবাস পরিষেবা। সন্ধ্যা ৬টার পর অধিকাংশ রুটেই মিলছে না বাস। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাস মালিকরা। এ বার কালীপুজোর পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিলেন বাস মালিক সংগঠনের কর্তারা।

দুর্গাপুরের মিনিবাস পরিষেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র প্রান্তিকা বাসস্ট্যান্ড। এখান থেকে দুর্গাপুর স্টেশন-সহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে মিনিবাস। কিন্তু বাস মালিকদের অভিযোগ, পুজোর সময় থেকেই বাসস্ট্যান্ড কার্যত টোটোচালকদের দখলে চলে গিয়েছে। কোনওরকমে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই চালাচ্ছে বাসগুলি। রাস্তায় বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ার সুযোগে টোটোচালকদের দাপটও ক্রমশ বাড়ছে বলে অভিযোগ।

বাস মালিক ও স্থানীয়দের দাবি, রাজ্যের পরিবহণ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী বাসের নির্দিষ্ট রুটে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার কথা। পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং দায়িত্ব নেওয়ার পর বাস মালিক সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকেও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই বৈঠকের পর বাসের রুটে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবহণ দফতরের তরফে নির্দেশিকাও জারি করা হয়। সেই মতো পশ্চিম বর্ধমানের সদর শহর আসানসোলের একাধিক রুটে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় যানজটের সমস্যা কমেছে বলে দাবি। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি বাসরুটও নতুন করে চালু হয়েছে। বাসের রুট যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকেই টোটো যাত্রী তুলছে। কিন্তু দুর্গাপুরে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা বলে অভিযোগ।

বেনাচিতি বাজার থেকে দুর্গাপুর স্টেশন, ডিভিসি মোড়—শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলিতেও অবাধে চলাচল করছে টোটো। ফলে যাত্রী কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাস মালিকরা। তাঁদের অভিযোগ, পুজোর আগে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে দুর্গাপুরের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বাসরুটের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। কোন কোন রাস্তায় বাস পরিষেবা রয়েছে এবং কোথায় টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন, তাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

দুর্গাপুর সাব-ডিভিশন মিনিবাস অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অলোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলেও দুর্গাপুরে কেন তা হচ্ছে না, তা তাঁদের বোধগম্য নয়। আপাতত শহরের মাত্র পাঁচটি রুটে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্য দিকে, দুর্গাপুর প্যাসেঞ্জার কেরিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক মজুমদার জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

যদিও বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন দুর্গাপুরের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক দেবাশিস ঘোষ। তাঁর কথায়, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত কতটা সুরাহা হয়, নাকি কালীপুজোর পর সত্যিই রাস্তায় নামা বন্ধ করে দেন বাস মালিকরা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দুর্গাপুরের যাত্রীরা।


Share