Accident

জামুড়িয়ায় নির্মীয়মাণ চিমনি ভেঙে বিপর্যয়, মৃত চার শ্রমিক! ক্ষতিপূরণ ২০ লক্ষ টাকা

মৃতদের পরিবারপিছু ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, একজনকে চাকরি এবং শেষকৃত্যের জন্য এক লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরেই শুরু হয়ে উদ্ধারকাজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল
  • শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৫৬

মহাসপ্তমীর রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা আসানসোলের জামুড়িয়ার ইকড়া শিল্পতালুকে। শ্যাম সেল কারখানার ৩ নম্বর গেটের কাছে একটি নির্মীয়মাণ চিমনি ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে চার শ্রমিকের। সার্থকপুর শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। দুর্ঘটনার সময় সেখানে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আচমকা চিমনিটি ভেঙে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন বেশ কয়েকজন শ্রমিক।

খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাতভর চলে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। গভীর রাত পর্যন্ত সেখান থেকে চার শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে সকাল থেকে ফের উদ্ধারকাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন জামুড়িয়ার বিধায়ক ডা. বিজন মুখোপাধ্যায়, পুলিশ কমিশনার-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও তাঁরা বৈঠক করেন।

প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষের বৈঠকে মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মৃত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে এককালীন ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি এবং শেষকৃত্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

পুজোর উৎসবের মধ্যেই এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে নির্মীয়মাণ চিমনিটি ভেঙে পড়ল এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠছে। জামুড়িয়ার বিধায়ক ডা. বিজন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিধায়কের কথায়, “পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আগামী দিনে জামুড়িয়ার কোনও কারখানায় যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে কারখানাগুলির উপর নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।


Share