Asansol Municipality

ভেঙে দেওয়া হল আসানসোল পুরবোর্ড! প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে অদিতি চৌধুরী, শো-কজের জবাবেও মিলল না রেহাই মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের

এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সচিব পুরসভাকে শো-কজ নোটিশ পাঠান। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মেলায় শেষ পর্যন্ত পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।

আসানসোল পুরসভা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০২:৪৮

রাজ্যের আরও একটি পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সরকার। এ বার আসানসোল পুরসভার নির্বাচিত পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা জারি করে অদিতি চৌধুরীকে আসানসোল পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই আসানসোল পুরসভায় প্রশাসনিক অচলাবস্থার অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ ছিল, নিয়মিত পুরবোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল না। পাশাপাশি, সম্পত্তি কর মকুব সংক্রান্ত একাধিক অনিয়মের অভিযোগও সামনে আসে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সচিব পুরসভাকে শো-কজ নোটিশ পাঠান। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মেলায় শেষ পর্যন্ত পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।

অদিতি আসানসোল পুরসভার পুর কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তবে বিধানসভা ভোটের সময় তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পাঠানো হয়। সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের একাধিক পুরসভায় প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগ এবং কয়েকজন মেয়রের বেসুরো অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে তৃণমূল পরিচালিত বহু পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই তালিকায় ছিল আসানসোল পুরসভাও।

আসানসোল পুরসভার মোট ১০৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ইতিমধ্যেই ছয়জন কাউন্সিলর এবং দু’জন বরো চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কাউন্সিলরদের প্রাপ্য সাম্মানিক ও পেট্রল ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই টানাপড়েনের মধ্যেই মেয়র বিধান উপাধ্যায়কে শো-কজ নোটিশ পাঠানো হয়। জবাবে তিনি সরকারের তোলা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দেন। পাশাপাশি, পুর কমিশনারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন।

বিধান শো-কজ নোটিশ পাওয়ার পর আসানসোল থেকে কলকাতায় ফিরে আসেন। যদিও তিনি কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে যাননি। পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দুই অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই সাক্ষাতের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


Share