Anti Corruption Branch

জলে হাত দিতেই রং বদল, ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল বিডিও অফিসের আধিকারিক, তার পরেই গ্রেফতার

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “জামবনিতে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। সরকারি অফিসে টাকা দিয়ে আর কোনও কাজ হবে না। দু’লক্ষ টাকা করে ঠিকাদারের কাছ থেকে নিচ্ছিল। অ‍্যান্টি কোরাপশন ইউনিট এই কাজ করছে।”

ধৃতের নাম বিমল সাহা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম
  • শেষ আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪১

ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন বিডিও অফিসের আধিকারিক। জলে হাত ডোবাতেই রং পাল্টে যায়। তদন্তকারীদের বক্তব্য, টাকায় রাসায়নিক লাগানো ছিল। সিবিআই এত দিন এমন অভিযান চালাত। সেই পথেই এ বার হাঁটল রাজ‍্য পুলিশও। দফতরের অন্দরে দুর্নীতির পাহাড় ভাঙতে এ বার কোমর বেঁধে নামল রাজ‍্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা।

জামবনি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের কার্যালয়ে অভিযান হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই দফতরে সাব অ‍্যাসিস্টান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন বিমল সাহা। অভিযোগ, তিনি প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার পাইয়ে দিতেন। বদলে মোটা টাকা নিতেন। পাশাপাশি যে কাজ হয়েছে তাতে সঠিক গুনগত মান বজায় রয়েছে কি না তার ছাড়পত্র দিতেন। বদলে ঠিকাদারদের কাছ নিতেন ঘুষ। সেই মর্মেই দুর্নীতি দমন শাখার হেল্পলাইন নম্বরে এক ঠিকাদার অভিযোগ জানান।

অভিযোগ পেয়েই ফাঁদ পাতে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা। ঠিক হয় বৃহস্পতিবার বিকেলে জামবনির ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে অভিযান হবে। সেই মতো ছদ্মবেশে পৌঁছে যান তাঁরা। দু’লক্ষ টাকার হস্তান্তর হয়। এর পরেই নিজেরদের পরিচয় দেন। কাঁচের বাটি করে জল আনা হয়। তাতে হাত ডোবাতেই জলের রং গোলাপি হয়ে ওঠে। তিনি যে ঘুষ নিয়েছেন এবং তিনি আগেও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগে বিমল সাহাকে গ্রেফতার করা হয়।

টাকায় মূলত ফেনলপথ‍্যালিন লাগানো ছিল। তাই জলে হাত দিতেই গোলাপি রঙ হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এমন অভিযান আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) একাধিক বার করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— তৃণমূল জমানায় রাজ‍্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখাকে এতটাও সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “জামবনিতে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। সরকারি অফিসে টাকা দিয়ে আর কোনও কাজ হবে না। দু’লক্ষ টাকা করে ঠিকাদারের কাছ থেকে নিচ্ছিল। অ‍্যান্টি কোরাপশন ইউনিট এই কাজ করছে।”

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা তুললে সাসপেন্ড করব। গ্রেফতার করব। সরকারি কর্মচারী, পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যে সরকারি ব‍্যবস্থা আছে, তাকে আরও মজবুত বানানো। বলেছিলেন, “আমার কাছে মেসেজ সরাসরি এলেই সাসপেন্ড হবে। গ্রেফতার হবে। টোল ফ্রি নম্বরও চালু হচ্ছে। সব সিন্ডিকেট, বালি, কয়লা... যেখানে যা হবে টোল ফ্রি-তে জানাবেন। নবান্নে কন্ট্রোল রুম হয়েছে। ধরব, গ্রেফতার করব। সাসপেন্ড করব। তার পরে বাড়ি পাঠাব।”

কিছু দিন আগে তিন আইপিএস অফিসারকে দুর্নীতি দমন শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই শাখায় আইজি পদে বসানো হয় মুরলীধর শর্মাকে। এর পরেই দুর্নীতি দমন শাখা একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করে। তা হল— ৯৮৩৬২৩৩৮৯১ । যদি কোনও সরকারি আধিকারিক বা কর্মচারী ঘুষ দাবি করেন বা ঘুষ নেন তাহলে এই নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। 


Share