Murder Case

প্রেমিকাকে খুন, বস্তাবন্দি করে দেহ ফেলতে যাওয়া হচ্ছিল অযোধ্যার পাহাড়ে, নাকা চেকিংয়ে ধরা পড় যুবক, পুরুলিয়ায় গ্রেফতার অভিযুক্ত

পুরুলিয়ার বলরামপুরে বস্তা খুলতেই উদ্ধার হয় ১৯ বছরের তরুণীর দেহ। প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা ও সন্দেহের জেরেই খুনের অভিযোগ, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া
  • শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:১০

মোটরবাইকের পিছনে চাপানো ছিল একটি বস্তা। এক যুবক রাতের অন্ধকারে সেই বস্তা নিয়েই যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁকে পুলিশের নাকা চেকিংয়ে আচমকাই থামতে হল। বস্তাটি দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। বস্তার গায়ে রক্তের দাগ নজরে আসতেই সন্দেহ জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত বস্তা খুলতেই এক তরুণীর দেহ বেরিয়ে আসে। শনিবার রাতে পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার বিদ্যুৎ বিভাগের অফিসের কাছে নাকা চেকিংয়ের সময় যুবককে আটক করা হয়। দেহটি অযোধ্যা পাহাড়ে ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বাইকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। 

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত তরুণীর বয়স ১৯ বছর। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি থানা এলাকায়। অভিযুক্ত যুবকের নাম অমিতকুমার মাহাত। তাঁর বাড়ি হুড়ুমদা এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। যদিও মৃতার বাবা জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে তিনি চিনতেন না। তরুণী নার্সিংয়ের ছাত্রী। সেই কারণে পুরুলিয়া শহরের একটি মেসে ভাড়া থাকতেন। অভিযুক্তও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনিও পুরুলিয়া শহরের একটি মেসে ভাড়া থাকতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

মৃতার পরিচিতদের দাবি, ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা একই কোচিংয়ে পড়াশোনাও করতেন। সম্প্রতি তরুণী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল অভিযুক্তের। সেই বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই বচসা হত বলে অভিযোগ।

পুলিশের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, সেই বিবাদের জেরেই শনিবার তরুণীকে একটি নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর গলা কেটে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর দেহটি একটি বস্তায় ভরে। তার পরে দেহ লোপাট করতে অযোধ্যা পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল অভিযুক্ত। কিন্তু তার আগেই নাকা চেকিংয়ে পুলিশের হাতে তিনি ধরা পড়েন।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত যুবক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে রবিবার আদালতে হাজির করানো হয়েছে। বিচারক অভিযুক্তকে ন’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। কার্যত মুখ লুকিয়ে আদালতে প্রবেশ করেছে অভিযুক্ত অমিত। 

এদিকে মৃতার পরিবারের দাবি, শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ মেস থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন তরুণী। তারপর থেকেই তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাকে ফোন করতেন তিনি। সেই ফোন না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে মেয়েকে ফোন করেন তাঁর মা। কিন্তু মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এরপর তরুণীর বাবা মেসের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মেসের মালিকও খোঁজ শুরু করেন। তাঁর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুরুলিয়া শহরে এসে মেয়ের সন্ধান শুরু করে পরিবার। পরে থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়।

শনিবার গভীর রাতে নাকা চেকিংয়ের সময় ওই যুবককে আটক করার পাশাপাশি বস্তাবন্দি অবস্থায় তরুণীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতার পিসির দাবি, মোবাইলের চার্জার দিয়ে বস্তার মুখ বাঁধা হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, হাসপাতালের তরফে তাঁদের জানানো হয়েছে, খুনের আগে তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুলিশ। পরিবারের তরফে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

পুরুলিয়ার এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিয়েছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সুতপা চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের কথা। ২০২২ সালের মে মাসে মেসে ফেরার সময় সুতপার উপর হামলা চালিয়েছিলেন তাঁর পূর্বপরিচিত সুশান্ত চৌধুরী। মেসের দরজার সামনেই ছুরি দিয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। পর দিনই গ্রেফতার করা হয়েছিল সুশান্তকে। তদন্তে উঠে এসেছিল, সম্পর্কের জটিলতার জেরেই সুতপাকে খুন করা হয়েছিল। পুরুলিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাতেও প্রেমের সম্পর্ক এবং সন্দেহকে কেন্দ্র করে খুনের অভিযোগ ওঠায় সেই ঘটনার সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।


Share