Weather Update

প্রভাব কমছে নিম্নচাপের, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টি থেকে স্বস্তি, উত্তরবঙ্গে বজায় থাকবে সতর্কতা

গভীর নিম্নচাপ ক্রমশ দুর্বল হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির দাপট কমেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা-সহ অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

মেঘলা আকাশ সাথে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১২:০৪

কয়েকদিনের টানা বর্ষণের পর দক্ষিণবঙ্গে আপাতত কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। গভীর নিম্নচাপ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে সরে যাওয়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কমেছে। যদিও বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় আকাশ মেঘলা রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় আছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

কলকাতাতেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আপাতত শহরের জন্য ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই। ফলে স্বাভাবিক জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও কম।

অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে এখনও পুরোপুরি স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এই জেলাগুলির জন্য হলুদ সতর্কতাও জারি রয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও দফায় দফায় বৃষ্টি চলতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, কয়েকদিন আগে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে স্থলভাগের অনেকটাই ভিতরে প্রবেশ করেছে। এটি ঘণ্টায় প্রায় ১২ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছে। বর্ষাকালে এমন নিম্নচাপ সাধারণত ধীর গতিতে অগ্রসর হওয়ার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

ইসরোর ইনসাট-৩ডিআর উপগ্রহের সাম্প্রতিক ইনফ্রারেড চিত্রে দেখা গিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে ছত্তীসগড়, ওড়িশা এবং মধ্যপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে অবস্থান করছে। একই সময়ে মহারাষ্ট্র উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ঘন মেঘের উপস্থিতি থাকলেও সেটি নতুন কোনও নিম্নচাপের ফল নয়। আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা, আরব সাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় বাধা পেয়ে সেখানে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে।

এ দিকে মৌসম ভবনের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ বলছে, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়নি। উত্তর বঙ্গোপসাগরে কিছু বিচ্ছিন্ন মেঘ থাকলেও সংগঠিত কোনও আবহাওয়া ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি আরব সাগরের উপর আগে যে দুর্বল ঊর্ধ্বস্তরের ঘূর্ণাবর্তের কথা বলা হয়েছিল, সেটিও আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ফলে আপাতত নতুন কোনও শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা নেই। তবে বর্তমান নিম্নচাপের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মেঘলা আকাশ ও দফায় দফায় বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।


Share