Weather Update

বর্ষা এলেও দক্ষিণবঙ্গে আর্দ্রতজনিত অস্বস্তি অব্যাহত,উত্তরবঙ্গে অতিবৃষ্টির সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দফতর

মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দফতর

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১২:৩৬

বর্ষা এসেছে। দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ও রাজ্যের প্রায় সর্বত্র প্রবেশ করেছে। তবুও দক্ষিণবঙ্গের মানুষ এখনও সেই চেনা বর্ষার স্বস্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও বৃষ্টির দেখা খুব কম মিলছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। তবে তা সাময়িক। ফলে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কমার কোনও লক্ষণ নেই। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনেও দক্ষিণবঙ্গে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৪ ডিগ্রি বেশি। একইভাবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৮ ডিগ্রি বেশি থেকে ২৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দফতর।

আবহাওয়া দফতরের মতে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যধিক থাকায় ঘাম ও অস্বস্তি আরও বাড়ছে। এর ফলে অনুভূত তাপমাত্রাও প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় বেশি থাকছে। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছে। তবে এখনও তা যথেষ্ট সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। দুর্বল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং হুগলির কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে দফতর।

অন্য দিকে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ির কিছু অংশে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সপ্তাহ জুড়ে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। প্রবল বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ডুয়ার্স অঞ্চলের বিভিন্ন নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তরাই ও ডুয়ার্সের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।

ফলে এক দিকে যখন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অভাবে গরম ও অস্বস্তি বাড়ছে। অন্য দিকে উত্তরবঙ্গ অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্কতার প্রহর গুনছে। রাজ্যের দুই প্রান্তে আবহাওয়ার এই বিপরীত চিত্রই এখন সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।


Share