Weather Update

অন্ধ্র উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! আজ মাঝরাতে ল্যান্ডফল, কেমন ধরনের বঙ্গের আবহাওয়া?

সোমবার রাতেই ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা। তবে পশ্চিমবঙ্গে আপাতত কোনও বিশেষ সতর্কতা নেই। মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:৫৪

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মুরাসু’। ক্রমশ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে এই ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার রাতেই স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে মুরাসু। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছোতে পারে। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের জেরে পশ্চিমবঙ্গে আপাতত কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি।

আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ৬ ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়েছে মুরাসু। বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি অবস্থান করছে। নেল্লোর থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে, চেন্নাই থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ওঙ্গোল থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে সেটি। এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার।

পূর্বাভাস বলছে, ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টের মধ্যে স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে মুরাসু। দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায়, ওঙ্গোলের দক্ষিণে ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। স্থলভাগে প্রবেশের পর দ্রুত শক্তি হারাবে ঘূর্ণিঝড়টি।

অন্যদিকে, মুরাসুর গতিপথের দিকে নজর রাখছে বঙ্গের আবহাওয়া দফতরও। তবে এই সিস্টেমের কারণে পশ্চিমবঙ্গে আপাতত কোনও বিশেষ সতর্কতা নেই। সোমবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের মধ্যে শুধুমাত্র দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। বাকি জেলাগুলিতে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।

বুধবার থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ, দুই জায়গাতেই আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গে কমতে পারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

সমুদ্র পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কতা জারি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে কোনও সতর্কতা না থাকলেও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে সোমবার সকাল থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছোতে পারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাওয়ার গতিবেগ আরও বেড়ে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ বেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার ছুঁতে পারে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সমুদ্রও উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে মৎস্যজীবীদের জন্য আলাদা করে কোনও সতর্কতা জারি না হলেও ৪ নভেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।


Share