Weather Update

সোমবারই ঘূর্ণিঝড় তৈরির আশঙ্কা! বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ‘অর্ণব’,ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। উত্তাল সমুদ্রের কথা মাথায় রেখে মৎস্যজীবীদের জন্য জারি সতর্কতা।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৪

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবারই তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে সোমবার সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। মঙ্গলবারের মধ্যে সেটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সতর্কতা জারি করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ঘণ্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার গতিতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল আন্দামানের শ্রীবিজয়পুরম থেকে ৪৭০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে এর দূরত্ব ছিল ৮৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে। কাকিনাড়া থেকে ৯৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে, মছলিপত্তনম থেকে ১০৬০ কিলোমিটার পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে ১১৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল সেটি।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, রবিবার দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এই সিস্টেম। এরপর পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর গতিপথ পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে সেটি। সমুদ্রের উপর আরও শক্তি সঞ্চয় করে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে শক্তি আরও বাড়িয়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের কাছে পৌঁছতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলবর্তী এলাকায় বুধবার দুপুর নাগাদ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে রবিবার থেকেই পূর্ব-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার সমুদ্রে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার হতে পারে। মঙ্গলবার তা বেড়ে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার এবং বুধবার অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। বুধবার দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে হাওয়ার গতিবেগ কমতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মঙ্গলবারের পর মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের মঙ্গলবারের মধ্যে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

এদিকে, আগামী তিন দিন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এরপর তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।

রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৪ ডিগ্রি বেশি। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি কম।


Share