Cyclone

মধ্যরাতে ল্যান্ডফল! অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জুড়ে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবের কথা মাথায় রেখে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৬

মধ্যরাত থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে তাণ্ডব শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। মঙ্গলবার রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভারতের মৌসম ভবন জানিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার কাছে পুদুচেরির ইয়ানাম সংলগ্ন এলাকায় ল্যান্ডফল শুরু হয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও বেড়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইয়ানামের কাছে ২১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে একাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে একাধিক উড়ান ও ট্রেন।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, যাতে প্রাণহানি বা অন্য কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলির বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের থাকার জন্য দু’হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদেরও চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গেও। মঙ্গলবার রাত থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলিতে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার আবার পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবের কথা মাথায় রেখে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।


Share