Weather Update

শক্তি বাড়িয়ে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, রাজ্যে একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোথায় কোথায় তাণ্ডব চলবে ঝড়ের?

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, বৃহস্পতিবার বৃষ্টি বাড়তে পারে উত্তরবঙ্গেও।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৬

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে উপকূলের দিকে এগোচ্ছে এই ঘূর্ণিঝড়। এর জেরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ঝড়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই রেষ থেকে বাদ পড়বে না পশ্চিমবঙ্গও। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পর্ব শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বৃহস্পতিবার থেকে।

মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা গভীর নিম্নচাপটি সোমবার ভোরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। তার আগে রাতের দিকে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে উপকূলের দিকে এগোচ্ছিল সেটি। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান আন্দামানের শ্রীবিজয়পুরম থেকে ৫৯০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। বিশাখাপত্তনম থেকে এর দূরত্ব ৬৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে। কাকিনাড়া থেকে ৭৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে, মছিলিপত্তনম থেকে ৮৩০ কিলোমিটার পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে ৯১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে ‘অর্ণব’। অর্থাৎ, ক্রমশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়টি।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, সমুদ্রের উপর দিয়ে এগোনোর সময় আরও শক্তি বাড়াবে ‘অর্ণব’। মঙ্গলবার সকালে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথা আগে জানানো হলেও, নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী সোমবার মধ্যরাতের মধ্যেই সেটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। মঙ্গলবারের মধ্যে শক্তি আরও বাড়িয়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের কাছে বাপাতলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছোনোর আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ইতিমধ্যেই উত্তাল বঙ্গোপসাগর। সমুদ্রের সংশ্লিষ্ট অংশে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। উপকূলের দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে জারি করা হয়েছে সতর্কতা। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাতেও মৎস্যজীবীদের জন্য সাবধানবাণী রয়েছে। মঙ্গলবারের পর আপাতত সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। যাঁরা ইতিমধ্যেই মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদের মঙ্গলবারের মধ্যে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে শহরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেই পূর্বাভাস। একই পরিস্থিতি থাকতে পারে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায়। বৃষ্টির পাশাপাশি বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।

অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দুই বঙ্গেই আগামী তিন দিনের মধ্যে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর গতিপথ ও শক্তির দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। বঙ্গে বৃষ্টির প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী গতিবিধির উপর।


Share