PCB NOC Fee Controversy

বিদেশি লিগে খেলার পথেও টাকার বাধা! NOC দিতে পাক ক্রিকেটারদের থেকে ১০ হাজার ডলার করে চাইছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

২০২৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার SA-20 লিগের নিলামেও কোনও পাকিস্তানি ক্রিকেটার ছিলেন না। PCB নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলে আগামী দিনে মেজর লিগ ক্রিকেট-সহ অন্যান্য বিদেশি প্রতিযোগিতাতেও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সুযোগ কমতে পারে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০১:০৮

বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামা অনিশ্চিত পাকিস্তানের একাধিক ক্রিকেটারের। কারণ, তাঁদের খেলার অনুমতিপত্র বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) দিতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। এ বার আবু ধাবি T-10 লিগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চালু করতে চলেছে বোর্ড। প্রত্যেক ক্রিকেটারের কাছ থেকে ১০ হাজার আমেরিকান ডলার করে চাওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। PCB-র এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে।

আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত আবু ধাবিতে আয়োজিত হবে T-10 লিগ। প্রতিযোগিতার সমস্ত ম্যাচ হবে শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে। এই টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দলের হয়ে খেলার কথা রয়েছে পাকিস্তানের একাধিক পরিচিত ক্রিকেটারের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাদাব খান, নাসিম শাহ, ফখর জ়মান, সলমন ইরশাদ, সুফিয়ান মুকিম, ইফতিকার আহমেদ, আব্বাস আফ্রিদি এবং ফাহিম আশরাফ। কিন্তু PCB-র আর্থিক দাবি পূরণ না হলে তাঁদের খেলার অনুমতি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

পাকিস্তানের সাংবাদিক অরঙ্গজেব ইউনিস এই আর্থিক দাবির বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। আগে অভিযোগ উঠেছিল, বিদেশি লিগের আয়োজকদের কাছ থেকে NOC দেওয়ার বিনিময়ে টাকা চাইছিল PCB। কিন্তু এ বার সেই অর্থ সরাসরি ক্রিকেটারদের কাছ থেকেই নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ ধরে রাখতে হলে নিজেদের পকেট থেকেই ১০ হাজার আমেরিকান ডলার দিতে হতে পারে ক্রিকেটারদের।

এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে মেজর লিগ ক্রিকেট (MLC) এবং নেপাল প্রিমিয়ার লিগের (NPL) আয়োজকদের কাছ থেকেও NOC দেওয়ার জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল PCB-র বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিযোগিতা শুরুর ঠিক আগে বোর্ডের আধিকারিকরা ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ দাবি করতেন। ফলে শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দলে রাখা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হত আয়োজকদের।

এর প্রভাবও পড়েছে বিদেশি লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে। ২০২৬ সালের নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পাকিস্তানের কোনও ক্রিকেটারকে দেখা যায়নি। এমনকী, ২০২৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার SA-20 লিগের নিলামেও কোনও পাকিস্তানি ক্রিকেটার ছিলেন না। PCB নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলে আগামী দিনে মেজর লিগ ক্রিকেট-সহ অন্যান্য বিদেশি প্রতিযোগিতাতেও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সুযোগ কমতে পারে। বোর্ডের আর্থিক সিদ্ধান্তের জেরে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সেই ক্রিকেটারদেরই। 


Share