AIFF Financial Crisis

ভারতীয় ফুটবল ধ্বংস করছেন কল‍্যাণ চৌবে! ফেডারেশনের এফডি ভাঙার প্রস্তাবে ক্ষোভ, কল্যাণ চৌবেকে কাঠগড়ায় তুললেন সুব্রত দত্ত

NC: সহ-সভাপতি এন এ হ্যারিসের নেতৃত্বে জেনারেল বডির ১০-১২ জন সদস্যকে নিয়ে পৃথক বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানেই আর্থিক সঙ্কট কাটানোর পরবর্তী রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে বলে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

(বাঁ দিক থেকে) কল‍্যাণ চৌবে এবং সুব্রত দত্ত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১০:২৬

ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ আয়োজন করে প্রশংসা কুড়িয়েছিল ভারতীয় ফুটবল দল। কিন্তু সেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পরই বড়সড় আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনটি ম্যাচ আয়োজনের জেরে ফেডারেশনের আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে ফেডারেশনের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) ভেঙে ঘাটতি মেটানোর প্রস্তাব দিয়েছেন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এ বার এই ইস্যুতে কল্যাণকে কাঠগড়ায় তুলেন এআইএফএফের প্রাক্তন সহ-সভাপতি সুব্রত দত্ত। তাঁর দাবি, ভারতীয় ফুটবলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন কল‍্যাণ।

রবিবার আয়োজিত বিশেষ সাধারণ সভা বা এসজিএম হয়েছে। সেখান থেকেই এফডি ভাঙার প্রস্তাব দেন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তাঁর দাবি, বাইরের একটি উৎস থেকে টাকা সংগ্রহ করে পরে সেই অর্থ ফেরত দিয়ে এফডি-র টাকা পূরণ করা হবে। যদিও ম্যাচ আয়োজনের আগে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, এর আর্থিক বোঝা ফেডারেশনকে বহন করতে হবে না। ঠিক কত টাকা ক্ষতি হয়েছে, তা অবশ্য সভার ৩৩ জন ভোটারের সামনে প্রকাশ করতে চাননি সভাপতি তথা বিজেপি নেতা কল‍্যাণ। মাত্র চার-পাঁচজন সদস্যের কাছে বিস্তারিত হিসেব তুলে ধরার প্রস্তাব দেন তিনি।

কল্যাণের এই অবস্থানে আপত্তি জানান ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এন এ হ্যারিস। তাঁর বক্তব্য, প্রায় দু'বছর আগে এগজিকিউটিভ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া এফডি-তে হাত দেওয়া যাবে না। প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল্ল পটেলও এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, প্রায় ২০ কোটি টাকার এফডি ভেঙে ফেললে টুর্নামেন্ট আয়োজন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের খরচ কী ভাবে চলবে? অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর স্পনসর বা অনুদান জোগাড় করাও কঠিন বলে জানান তিনি।

ওডিশা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি অভিজিৎ পালের দাবি, গত মাস পর্যন্তই ফেডারেশনের ১৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অর্থবর্ষের এখনও অনেকটা সময় বাকি থাকায় ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সুব্রত দত্তের অভিযোগ, নিশ্চিত কোনও স্পনসর নেই। স্পনসরের বিষয়টিকে নিশ্চিত না করেই এত বিপুল খরচ করে ম্যাচ আয়োজন চরম ‘আর্থিক অপরিণামদর্শিতার’ পরিচয়। সুব্রতের আশঙ্কা, এফডি ভাঙলে আগামী দিনে কর্মীদের বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে। দেশে ফুটবলের উন্নয়ন ব্যাহত হবে। যে বাইরের উৎস থেকে টাকা ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, সেটি আদৌ নিশ্চিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্নও তুলেছেন সুব্রত দত্ত।

শেষ পর্যন্ত সহ-সভাপতি এন এ হ্যারিসের নেতৃত্বে জেনারেল বডির ১০-১২ জন সদস্যকে নিয়ে পৃথক বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানেই ফেডারেশনের আর্থিক সঙ্কট কাটানোর পরবর্তী রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে বলে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।


Share