Durand Cup

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, মোহনবাগানকে চূর্ণ করে ডুরান্ড জিতল ইস্টবেঙ্গল, হ‍্যাটট্রিক এডমুন্ডের

জয়ের সুবাদে ১৭তম বার ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল লাল-হলুদ শিবির। একই সঙ্গে সর্বাধিক ১৭ বার এই প্রতিযোগিতা জেতার মোহনবাগানের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল।

ডুরান্ড কাপ জিতল ইস্টবেঙ্গল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৩৪

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়ে চূর্ণ হল মোহনবাগান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন জিতল। ডার্বি ম‍্যাচে হ‍্যাটট্রিক করে ইতিহাসে নিজের নাম রাখলেন এডমুণ্ড লালরিনডিকা। তিনটি গোলই এডমুন্ড প্রথমার্ধেই করেছেন। অন‍্য গোলটি করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের হয়ে গোল দিয়েছেন মনবীর সিংহ।

এ ছাড়াও, এই ডার্বি ম‍্যাচে আরও এক মাইলফলক তৈরি হয়েছে। সেটা হল— ম্যাচের প্রথমার্ধ্বেই ইস্টবেঙ্গলের কাছে মোহনবাগান চারটি গোল খেয়ে গিয়েছে। ১৯৯৭ সালের ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালে বাইচুং ভুটিয়ার হ্যাটট্রিকে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ২৯ বছর পর সেই একই স্কোরলাইনে ফের সবুজ-মেরুনকে হারাল তারা। এ বার হ্যাটট্রিকের নায়ক এডমুণ্ড।

জয়ের সুবাদে ১৭তম বার ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল লাল-হলুদ শিবির। একই সঙ্গে সর্বাধিক ১৭ বার এই প্রতিযোগিতা জেতার মোহনবাগানের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল।

ম্যাচের শুরুতে বলের দখল এবং আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে মোহনবাগান কিছুটা এগিয়ে ছিল। ১০ মিনিটে বিপিন সিংহের গোলে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যায়। গোলের মুখ খুলতেই বদলে যায় গোটা ছবিটা। বক্সের বাঁ দিক থেকে শুভাশিস বসুকে কাটিয়ে বিপিনের মাটি ঘেঁষা শট বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়।

মোহনবাগান সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই মাত্র দু’মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে দ্বিতীয় গোলটি করেন এডমুণ্ড। বলের নাগাল পেতে ঝাঁপিয়েও বিশাল শেষরক্ষা করতে পারেননি। ১২ মিনিটের মধ্যেই ২-০ এগিয়ে যায় লাল-হলুদ শিবির।

আবার তৃতীয় গোলটি আসে ২২ মিনিটে। মোহনবাগানের রক্ষণকে ফের ছিন্নভিন্ন করেন এডমুণ্ড। ড্যানিয়েল রামিরেজের পাস ধরে বক্সে ঢুকে প্রথমে এক ডিফেন্ডার এবং পরে গোলকিপার বিশালকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান। স্কোরলাইন হয়ে যায় দাঁড়ায় ৩-০ তে। ৩৩ মিনিটে ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধ করেন মনবীর সিংহ। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে জয় গুপ্তকে কাটিয়ে তাঁর শট আনোয়ার আলির পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল বল স্পর্শ করলেও তা আটকাতে পারেননি।

মোহনবাগানের প্রত্যাবর্তনের আশা অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে ফের গোল করেন এডমুণ্ড লালরিনডিকা। মহম্মদ রশিদের ফ্রি কিক থেকে বল পান জয় গুপ্ত। তাঁর বাড়ানো বল জালে ঠেলে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এডমুণ্ড। বিরতির আগেই ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।

বরং প্রতিআক্রমণ থেকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ ইস্টবেঙ্গল পেয়েছিল। মোহনবাগানের ‘জঘন্য’ রক্ষণভাগকে চ‍্যালেঞ্জ করে হাফ ডজন গোল দিয়ে পঞ্চাশ বছরের রেকর্ডও ভেঙে দিতে পারত। এমনকী, এডমুণ্ডের সামনে চতুর্থ গোল করার সুযোগও এসেছিল। পরে পরিবর্ত হিসেবে নামা জেসিন একবার বিশালকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য কার্যত লেখা হয়ে গিয়েছে।

শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসবে ফেটে পড়ে যুবভারতীর লাল-হলুদ গ্যালারি। মরশুমের প্রথম ডার্বিতে হারের হতাশা মুছে সবচেয়ে বড় মঞ্চে মোহনবাগানকে চূর্ণ করল করল ইস্টবেঙ্গল। আর বাইচুংয়ের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের স্মৃতি ফিরিয়ে লাল-হলুদ সমর্থকদের নতুন নায়ক হয়ে উঠলেন এডমুণ্ড লালরিনডিকা।

এ বারের ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তবে ফাইনালের আগে মোহনবাগানকেই অবশ্য সাম্প্রতিক ডার্বির ফল আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছিল। কিন্তু খেতাবের লড়াইয়ে সেই হারের হিসাব সুদে-আসলে আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাসের দল মিটিয়ে দিল।


Share