Jadavpur University

দুই কমিউনিস্ট সংগঠনের সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, জখম দুই অধ্যাপক-সহ জখম ৮ জন

এই বিষয়ে যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, "আমার কাছে এ ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরল। শিক্ষক-শিক্ষিকারা ওখানে দৌড়ে গিয়েছেন ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে। সেখানে শিক্ষকদের মার খেতে হচ্ছে। এর থেকে দুর্ভাগ্যের আর কী হতে পারে!”

উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৮

দুই কমিউনিস্ট সংগঠনের সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সূত্রের খবর, সেখানে আইসিসি নির্বাচন ঘিরে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। দু’দল কমিউনিস্ট সংগঠনের সংঘর্ষে মধ্যে পড়ে দু’জন অধ্যাপক জখম হয়েছেন।

জানা গিয়েছে, অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি বা আইসিসি নির্বাচন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর উত্তপ্ত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভায় পড়ুয়া-শিক্ষকেরা যোগ দিয়েছিলেন। তার পরই সায়েন্স-আর্টস মোড়ের কাছে দুই ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। একে অপরকে লক্ষ‍্য অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এর পরেই শুরু হয় হাতাহাতি। সেখানেই মধ্যস্থতা করতে যান দুই অধ্যাপক। হাতাহাতির মধ্যে পড়ে জখম হয়েছেন দুই অধ্যাপক ললিত মাধব এবং রাজ্যেশ্বর সিংহ।

দুই অধ্যাপককেই সেখান থেকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী এক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অধ‍্যপক ললিত মাধবকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও রাজ্যেশ্বরের আঘাত বেশি। তাঁর চোখে ঘুষি মারা হয়েছে। চশমার কাচ ভেঙে আঘাত নাক ফেটে গিয়েছে। তাই তাঁকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে দু’দলের ৬ পড়ুয়াও জখম বলে জানা গিয়েছে।

অধ‍্যাপক রাজ্যেশ্বর বলেন, “দুই দল ছাত্রের মধ্যে ব‍্যাপক গোলমাল হচ্ছিল। সে সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্যই মধ্যস্থতা করতে গিয়েছিলাম। এই দু’দল ছাত্রের কেউই আমাকে আঘাত করেনি। বাইরে থেকে অন্য এক ছাত্র হঠাৎ এসে আমাকে মারধর করে।” অধ্যাপকের দাবি, বিবদমান ছাত্রেরাই আবার তাঁকে প্রাথমিক শুশ্রূষা করেছেন।

সূত্রে খবর, উই দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট (ডব্লিউটিআই) এবং এসএফআইয়ের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরেই চাপানউতর চলছিল। এসএফআই সদস্য এক পড়ুয়ার দাবি, তাঁরা আইসিসি নির্বাচনের প্রচার চালাচ্ছিলেন। বিশেষত প্রথম বর্ষের পড়ুয়ারা এই নির্বাচনে সক্রিয় হয়েছে। সে বিষয়কে কেন্দ্র করেই গোলমাল চলছিল।

অভিযোগ, শুক্রবার প্রথম বর্ষের এসএফআই ছাত্রদের ডেকে হুমকি দিতে শুরু করেন ডব্লিউটিআই-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়ারা। সেই সময় সেখানে এসএফআইয়ের অন্য সদস্যেরা উপস্থিত হন। উপস্থিত হন বেশ কয়েক জন শিক্ষক-অধ্যাপকও। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ লক্ষ্য করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

এসএফআইয়ের দাবি, দর্শন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র উজান এবং সমাজবিদ্যার ছাত্র রূপম সিকদার এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত। যদিও ডব্লুটিআইয়ের দাবি, এসএফআইয়ের ছেলেরা তাঁদের দেখে হুমকি দিতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, উজানের বিরুদ্ধে এর আগেও বহু অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার পরে সেখানে থাকা অন‍্যান‍্য পড়ুয়াদের মধ‍্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পড়ুয়া বলেন, “আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। এখানে এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমরা রীতিমতো আতঙ্কিত।”

এই বিষয়ে যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, "আমার কাছে এ ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরল। শিক্ষক-শিক্ষিকারা ওখানে দৌড়ে গিয়েছেন ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে। সেখানে শিক্ষকদের মার খেতে হচ্ছে। এর থেকে দুর্ভাগ্যের আর কী হতে পারে!” সন্ধ্যা পর্যন্ত যাদবপুর থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি ঘিরে সংঘর্ষ নতুন নয়। কিন্তু এ ভাবে অধ্যাপক নিগ্রহের ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন পার্থপ্রতিম বিশ্বাস বলেন, “গত এক দশকে এ ভাবে শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেনি যাদবপুরে। স্বাভাবিক ভাবেই ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের উপর এর প্রভাব পড়বে।”


Share