TMC Crisis

মমতা-অভিষেকের দখলমুক্ত তৃণমূল, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার প্রস্তাব, রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল

মুর্শিদাবাদের বিধায়ক আখরুজ্জামানকে মুখ‍্যসচেতকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ঘটনার পরে তৃণমূল মমতা-অভিষেকের দখলমুক্ত হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ১২:৫৯

রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করলেন তৃণমূলের বিধায়কেরা। জানা গিয়েছে, ৫৮ জন দলীয় বিধায়ক তাঁর নাম প্রস্তাব করেছেন। মুর্শিদাবাদের বিধায়ক আখরুজ্জামানকে মুখ‍্যসচেতকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ঘটনার পরে তৃণমূল মমতা-অভিষেকের দখলমুক্ত হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কেরা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা নিয়ে স্পিকারের কাছে প্রস্তাব দেবেন বলে জানা যায়। সেই মতো দলের ৬০ জন তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় পৌঁছে যায়। বিধানসভার নওশাদ আলি কক্ষে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন ঋতব্রত-সন্দীপণেরা। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বৈঠক চলে।

এর পরেই রেজুলেশন তৈরি করে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে জমা দিয়েছেন। সশরীরে গিয়ে তাঁরা এই চিঠি জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা করার জন‍্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় দলের মুখ‍্যসচেতকের পদে আখরুজ্জামানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ডেপুটি লিডার হিসেবে শিউলি সাহা, জাভেদ খানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

১৯৯৮ সালে ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায় এই দলটিকে গঠন করেছিলেন। কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে দলটিকে গঠন করেছিলেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেস যখন প্রতিষ্ঠা হয় তখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব কংগ্রেসে রয়েছেন। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তৃণমূলের দ্বিতীয় সভাপতি হন। ২০১১ সালে সিপিএমকে হারিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে। সংবাদমাধ্যমের প্রচারের আলোতে না এসে অনেকটা পেছন থেকে বসে দলের জন‍্য কাজ করেছেন মুকুলবাবু। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। দলে বাড়তে থাকে প্রভাব। মুকুল রায় দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে রাজ‍্যের বিজেপির বীজ বপন করেন। ১৮টি লোকসভা আসন জিতে নেয় সেই সময়।

এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের একছত্র আধিপত্যবাদের জেরেই ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বলে দলেরই নেতারা অভিযোগ করছেন। ঘটনার সূত্রপাত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি নিয়ে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার নির্বাচন নিয়ে তিনি চিঠি দিয়েছিলেন। তাতে কবে বৈঠক হয়েছিল তার কোনও উল্লেখ ছিল না। ফলে তা খারিজ করে দেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। পরে আবার একটি চিঠি দেন। তাতে মিনিট-সহ বিধায়কদের চিঠি ছিল। এর পরেই দলের দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানান— সেখানে এমন কিছু বিধায়কের সই রয়েছে, যাঁরা ওই বিধায়ককেরা করেননি। তারপরে বিধানসভার স্পিকার হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৪১ জনের সই থাকলেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার নির্বাচন করা যাবে। সই-কান্ডের তদন্তে মদন মিত্র, কুনাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েক জনের বাড়িতে সিআইডির যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দু’বার তলবের চিঠি ধরানো হয়েছে।


Share