Sukhendu Shekhar Roy

দিল্লিতেও ভাঙল তৃণমূল, রাজ‍্যসভার পদ থেকে ইস্তফা সুখেন্দুশেখরের, দল থেকেও পদত্যাগ, কোয়েলকে নিয়ে জল্পনা

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরে এই বর্ষীয়ান নেতা মুখ খুলেছিলেন। সুখেন্দুশেখর আরজি কর কান্ডের পরেও মুখ খুলেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপে অভিযোগ উঠেছিল।

বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুখেন্দুশেখর রায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১২:৪৯

রাজ্যের পরে দিল্লিতেও তৃণমূলের ভাঙন শুরু হল। রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। দল থেকেও পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত জানালেন বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতা। এর পরেই আরজি কর কান্ড এবং দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগলেন। তিনি জানান, আরজি কর কান্ডের পরেই তিনি দল থেকে পদত্যাগ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এত দিনে তা কার্যকর করলেন। তৃণমূলের আরেক রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিককে নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনিও ইস্তফা দিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।

সোমবার দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে থাকছে না। কংগ্রেস থেকে থাকবেন সোনিয়া গাঁধী, রাহুল গাঁধী। তৃণমূলের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন। সেই বৈঠক শুরুর আগেই দলে ভাঙন হল। সুখেন্দুশেখর রায় রাজ‍্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। পাশাপাশি দল থেকেও ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরে এই বর্ষীয়ান নেতা মুখ খুলেছিলেন। সুখেন্দুশেখর আরজি কর কান্ডের পরেও মুখ খুলেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপে অভিযোগ উঠেছিল। নিজের দলের সাংসদকে পুলিশ দিয়ে লালবাজারে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তা নিয়ে সুখেন্দুশেখর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেও জানা যায়। তার পরেও দলের সঙ্গেও থেকেছেন। সরকার বদলের পরে আর চুপ করে সহ‍্য করতে পারলেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিলেন।

পদত্যাগপত্রে সুখেন্দুশেখর রায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সর্বত্র বেলাগাম দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেছেন। দিল্লি থেকে তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে রাজনীতি থেকেও অবসর নিতে পারেন। তিনি জানান, দলের অন্দরে দুর্নীতি এবং দল নিয়ে মানুষের ক্ষোভ মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাই পতন অনিবার্য ছিল। তাঁর দাবি, তৃণমূল ‘সৎ’ নেতারা দলের অন্দরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।

এ দিন দলের জাতীয় স্তরের নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়। আরজি করের ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। বলেন, “আরজি কর নিয়ে তো আমি প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলাম। তাই অনেক দিন ধরে দলের ভিতরে কোণঠাসা ছিলাম। আমার অপরাধ, আমি পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্তের দাবি করেছিলাম। কারণ, আমি এখনও মনে করি ঘটনার প্রমাণ লোপাটে তাঁদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই ঘটনার পর দোষীদের রক্ষা করার চেষ্টা চলছিল। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই, এই দলে বেশি দিন থাকব না। সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলাম।”

এর পরেই সুখেন্দুশেখর বলেন, “তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। দল থেকেও পদত্যাগ করেছি। নির্বাচনে পরাজয়ের পর কোনও কারণ অনুসন্ধান করা হয়নি। মানুষের সঙ্গে এই দলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।” তিনি এ-ও জানান, “সিপিএমকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসাই এই দলের অন্যতম কর্মসূচি ছিল। যত দিন গেল, দেখা গেল দলের দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিল।”

রাজ্য বিধানসভায় ইতিমধ্যে তৃণমূলের ভাঙন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা না মেনে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেন কয়েক জন বিধায়ক। মোট ৫৯ জনের সমর্থনে বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জল্পনা, পরিষদীয় দলের পর একই ধাঁচে ভাঙতে পারে তৃণমূলের সংসদীয় দলও। সোমবার দিল্লিতে বেশ কয়েক জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ পৌঁছেও গিয়েছেন। যদিও প্রকাশ্যে তাঁরা কোনও দলবিরোধী মন্তব্য এখনও করেননি।


Share