TMC Leader Arrest

‘পুলিশের গায়ে হাত পড়লে রেয়াত নয়’, কড়া বার্তার মাঝেই রাজ্যজুড়ে গ্রেফতার তৃণমূলের একাধিক নেতা ও ঘনিষ্ঠেরা

মঙ্গলবার তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেল। স্থানীয় কয়েক জন দোকানদারের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ০৯:৫৬

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, হুমকি, মারধর থেকে শুরু করে ডাকাতির পরিকল্পনার মতো একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূলের নেতা ও ঘনিষ্ঠরা। গত দু’দিনে ধারাবাহিক গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেল। স্থানীয় কয়েক জন দোকানদারের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এক দোকানদারের কাছ থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা তোলা নেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি সোমবার রাতে বিধাননগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপিতাকেও গ্রেফতার করা হয়। একই ঘটনায় অভিজিৎ পোল্লে ওরফে ছোটুকেও পাকড়াও করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাস্তার ধারের দোকান, অটো, টোটো, বাস ও হকারদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত তোলা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, গত চার বছরে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছে। সেই টাকার ভাগ কোথায় গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ছোটু ছিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ।

আবারও শিরোনামে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। শাহজাহান শেখ-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা শ্রীদাম হাউলিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সন্দেশখালি-২ ব্লকের তৃণমূল সহ-সভাপতি শ্রীদামের বিরুদ্ধে দাঙ্গা, মারধর, খুনের চেষ্টা, নারী নির্যাতন এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এছাড়া ভেড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং অতিমারির সময়ে সরকারি নির্দেশ অমান্যের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ডাকাতির পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বাঁকুড়ায় গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সহ-সভাপতি সূরজ বক্স। সোমবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে এক প্রাথমিক শিক্ষক ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতাকে মারধরের ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশ সূত্রে খবর, রাজগ্রাম-শ্যামডাঙা রোডের ধারে একদল দুষ্কৃতী ডাকাতির ছক কষছিল বলে খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে দু’জন ধরা পড়লেও বাকিরা পালিয়ে যায়। তদন্তে উঠে আসে এক তৃণমূল যুবনেতার নাম।

পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরেও গ্রেফতার হয়েছেন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা আহম্মদ হোসেন শেখ। পুরনো মামলায় জামিন নিতে গিয়ে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহম্মদ হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি, দাদাগিরি ও সরকারি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি প্রাক্তন গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। দীর্ঘদিন তাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না বলেও জানা গিয়েছে।

এদিকে, পুলিশের উপর হামলার ঘটনাতেও শুরু হয়েছে কড়া পদক্ষেপ। পার্ক সার্কাসে পুলিশের উপর হামলার ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, 'পুলিশের গায়ে হাত পড়লে কাউকে রেয়াত করা হবে না।' তারই মধ্যে হাওড়ার পিলখানায় র‌্যাফের উপর হামলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে মহম্মদ আরশাদ আনসারিকে। গত ফেব্রুয়ারিতে এক খুনের ঘটনার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাফের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের পড়াশকোল এলাকায় তোলাবাজি ও কয়লা সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের দুই নেতা রামজীবন লোহার এবং মুন্না সাউ। রামজীবন বহুলা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এবং স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা বীর বাহাদুরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অভিযোগ, কোলিয়ারি এলাকায় কাজ করতে গেলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হত। টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ পদক্ষেপ করে।


Share