Annapurna Yojona

৯০ দিন চলবে নাম নথিভুক্তি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবে সরকার, নবান্নে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের তালিকায় বিপুল পরিমাণ ‘বেনোজল’ ঢুকে পড়েছে। সেই কারণেই নতুন করে বিশুদ্ধ তালিকা তৈরির লক্ষ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

নবান্নে বৈঠক
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১১:৫৫

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম রাজ্যের সকলকেই পূরণ করতে হবে বলে স্পষ্ট জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এবং কারা পাবেন না, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের তালিকায় বিপুল পরিমাণ ‘বেনোজল’ ঢুকে পড়েছে। সেই কারণেই নতুন করে বিশুদ্ধ তালিকা তৈরির লক্ষ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলারাই সুবিধা পাবেন। যারা আয়কর দেন, সরকারি চাকরি করেন, নিয়মিত বেতন পান বা পেনশনভোগী, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না। তবে বাকি যোগ্য মহিলাদের সকলকেই এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ২ জুনের মধ্যে নাম নথিভুক্ত করা গেলে জুন মাস থেকেই টাকা পাওয়া শুরু হবে।

শুভেন্দু স্পষ্ট করেন, ফর্ম পূরণ নিয়ে আতঙ্ক বা তাড়াহুড়োর কোনও প্রয়োজন নেই। আগামী ৯০ দিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে। যত দিন না অন্নপূর্ণা যোজনা কার্যকর হচ্ছে, তত দিন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ চালু থাকবে। তবে যারা নতুন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবেন, তাঁদের পুরনো প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।

অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবেই ফর্ম জমা দেওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যারা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাদের বাড়িতে গিয়ে সরকারি কর্মীরা সাহায্য করবেন। নবনির্বাচিত বিধায়কদেরও এই কাজে যুক্ত করা হবে। আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ তারিখ আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরেও ফর্ম পূরণের সহায়তা দেওয়া হবে।

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে পরিবারের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে এই তথ্য ব্যবহার করার লক্ষ্যেই তথ্যভান্ডার তৈরি করছে সরকার। মুখ্যসচিব, অর্থসচিব-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। আধার ও ভোটার তালিকার কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। মহিলা ও শিশুকল্যাণ দফতরের অধীনে এই প্রকল্প পরিচালিত হবে।

‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, বহু এমন ব্যক্তি এখনও টাকা পাচ্ছেন যাঁদের নাম স্থায়ীভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে এবং যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদনও করেননি। তাঁর দাবি, এমন প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ এখনও প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। সেই কারণেই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে যাঁরা সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কিংবা এসআইআর-এ নাম বাদ গেলেও ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের আপাতত প্রকল্পের আওতায় রাখা হবে।


Share