TMC-BJP Clash

গিরিশ পার্কে কেন পাঠানো হল না কেন্দ্রীয় বাহিনী? কারণ জানতে চায় কমিশন, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে জবাব তলব কমিশনের

গিরিশ পার্কে অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। ভাঙচুরের অভিযোগে চার জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সিসি ক্যামেরার সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শাসক-বিরোধী সংঘর্ষে উত্তপ্ত গিরিশ পার্ক।
অরুণিমা কর্মকার, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১১:২৩

বিজেপি এবং তৃণমূলের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গিরিশ পার্ক। ভাঙচুর হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি। জখম হয়েছেন দু’পক্ষের বেশ কয়েক জন। অশান্তি চলাকালীন কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হল না তা নিয়ে জবাব তলব করল নির্বাচন কমিশন। কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

নির্বাচন ঘোষণার আগেই রাজ্যে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিয়মিত রুট মার্চ করাও শুরু করে দিয়েছে। এ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যোগ দিতে আসার সময় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গিরিশ পার্ক। কয়েক ঘন্টা ধরে কী করে অবাধে তান্ডব চলল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে দেখা মেলেনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হল না তা নিয়ে ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হল না তা নিয়ে জবাব তলব করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। কলকাতা উত্তরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছেও রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। দুই আধিকারিককেই আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে কর্মী-সমর্থকেরা যাচ্ছিলেন। তার মধ্যে রাজ্যের মন্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা সত্ত্বেও, প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে ওই এলাকায় অশান্তি চলল। তার পরেও সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দেখা যায়নি।”

গিরিশ পার্কে অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। ভাঙচুরের অভিযোগে চার জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সিসি ক্যামেরার সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভিডিয়ো ফুটেজ তদন্ত করে দেখে তাণ্ডবে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা শহরে আসছিলেন। সভা শুরুর আগে গিরিশ পার্ক এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। শশী পাঁজার দাবি, তাঁর বাড়ির আশপাশে থাকা ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা পোস্টার ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলার পর বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল কর্মীদের মারধর করেন।

অন্যদিকে, পাল্টা অভিযোগ করেছে বিজেপি। বিজেপির দাবি, তৃণমূল কর্মীরাই তাদের বাস লক্ষ্য করে ইট ছুড়েছেন। তাতে কয়েক জন কর্মী আহত হন। কলকাতা উত্তরের বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ গুরুতর জখম হয়েছেন। এক বিজেপি কর্মীর মাথায় ১০টি সেলাই পড়েছে। ব্রিগেডমুখী বেশ কিছু বাসেও ভাঙচুর হয়েছে বলে অভিযোগ। দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে বৌবাজার থানার ওসিও আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশকে রেঁস্তোরায় ঢুকে লুকিয়ে পড়ারও ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে।


Share