Special Intensive Revision

রাজ‍্য সরকারের ভূমিকায় হতাশ সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

রাজ্যে ‘দোষারোপের রাজনীতি’ চলছে বলে মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক একটা দোষারোপের খেলা চলছে। দু’টি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশন) একে অন্যকে দোষ দিচ্ছে।”

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:১৯

রাজ্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এফআইআর)-এর কাজে রাজ‍্য সরকারের ভূমিকায় হতাশ সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর মামলায় নজিরবিহীন নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এসআইআর নিয়ে রাজ‍্য সরকার এবং কমিশনের সংঘাত অনভিপ্রেত। দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমনটা চলতে পারে না। শুক্রবার রাজ্য সরকারকে কার্যত ভর্ৎসনা করেছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, এ বার ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ করবেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। তাঁদেরকে মাইক্রো অবজার্ভারেরা কাজে সাহায্য করবে। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করবে।

শুক্রবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। সেই মামলাতে রাজ্য ভূমিকাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত জানায়, রাজ্যের ভূমিকায় তারা হতাশ। দেশের প্রধান বিচারপতির কথায়, রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। রাজ্য সরকার এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যেখানে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরকে কেন্দ্র করে ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

এর পরেই কলকাতা হাই কোর্টকে এসআইআরের কাজের জন্য কয়েক জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিযুক্ত করার অনুরোধ করেন প্রধান বিচারপতি। আগামীকাল শনিবার কমিশন এবং রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে আলোচনায় বসার অনুরোধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই বৈঠকে কমিশনের প্রতিনিধি, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, মুখ্যসচিব, ডিজিপি, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এবং রাজ‍্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল থাকবেন। এসআইআরের কাজে হাই কোর্ট বর্তমান বিচারক এবং অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের নিয়োগ করবে। প্রতি জেলায় এমন কয়েক জন করে আধিকারিক নিয়োগ করা হবে। তাঁরা ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত কাজ করবেন বলে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

প্রধান বিচারপতি বক্তব্য, এসআইআরের কাজে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করায় আদালতের স্বাভাবিক কাজে সাময়িক প্রভাব পড়বে। সে ক্ষেত্রে অন্য আদালতে কিছু মামলা স্থানান্তরিত করতে পারে হাই কোর্ট। কিন্তু বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের খুব বেশি দিন এই কাজে নিযুক্ত রাখা যাবে না। এই সমস্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাজে সহযোগিতা করবে কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভার এবং রাজ্য সরকারি গ্রুপ-বি আধিকারিকেরা।

এ দিন ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত মনে করছে, সময়সীমা আর পিছোনো যাবে না। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ২৮ তারিখের মধ্যে যে সমস্ত নথির নিষ্পত্তি করা যাবে, তা দিয়েই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে পরে অতিরিক্ত তালিকা দিয়ে নাম যোগ করা যেতে পারে। সময়ের মধ্যে এসআইআরের কাজ যাতে শেষ হয়, তার জন্য শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে কমিশনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার করার নির্দেশ দিয়েছে।


Share