Supreme Court

জোড়াফুল-‘তৃণমূল’ নামের দখল নিয়ে মামলা, কমিশনকে সময়সীমা বেঁধে দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট, পরবর্তী শুনানি সোমবার

বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্ক নিষ্পত্তিতে কতটা সময় লাগতে পারে, তা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাইল শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫৩

অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্ক নিষ্পত্তিতে কতটা সময় লাগতে পারে, তা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাইল শীর্ষ আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার কমিশনের উদ্দেশ্যে জানায়, এমন একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যার মধ্যে উভয় পক্ষ নিজেদের প্রমাণ ও বক্তব্য পেশ করার ন্যায্য সুযোগ পায়, আবার প্রক্রিয়াটিও যেন অযথা দীর্ঘায়িত না হয়। আদালত আরও বলেছে, দুই পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের হাতেও পর্যাপ্ত সময় থাকা দরকার। অর্থাৎ, পুরো প্রক্রিয়ার জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে।

কালীঘাট এবং ঋতব্রত শিবিরের দ্বন্দ্বের আবহেই গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী নির্দেশে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দলের নাম ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং নির্বাচনী প্রতীক জোড়াফুল ‘ফ্রিজ’ করে। কমিশন জানায়, দল কার, ‘আসল’ তৃণমূল কোন গোষ্ঠী এবং দলের তহবিলের মালিকানা কোন শিবিরের—এই সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাম ও প্রতীক ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে শুক্রবার কমিশন দুই শিবিরের অন্তর্বর্তিকালীন নাম ও প্রতীকও নির্ধারণ করে। মমতা শিবিরের নাম হয় ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ফুটবল পায়ে ফুটবলার। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবিরের নাম হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক খাম। নন্দীগ্রামে প্রার্থী না থাকায় মমতা শিবির সেখানে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর পরেই কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলায় পক্ষ করা হয় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। মমতার হয়ে আইনজীবী কপিল সিব্বল দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ সব পক্ষকে মামলার বিষয়ে অবহিত করার নির্দেশ দেয় এবং দ্রুত শুনানির চেষ্টা করা হবে বলে জানায়। তার পর বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির প্রথম শুনানি হয়।


Share