TMC Political Crisis

আদালতের নথি দেখিয়ে ‘আসল তৃণমূল’-এর দাবি ঋতব্রতর, পার্টি অফিসে ঢুকলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি, পাল্টা জবাব কালীঘাট-শিবিরের

রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আদালতের নথির অংশ পড়ে শোনান এবং দাবি করেন, ২০২৬ সালের ২২ জুন বিশেষ অধিবেশনে গঠিত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ নেতৃত্ব।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫১

‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ই আসল তৃণমূল কংগ্রেস, এ বার আদালতের নথি দেখিয়ে এমনই দাবি করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আদালতের নথির অংশ পড়ে শোনান এবং দাবি করেন, ২০২৬ সালের ২২ জুন বিশেষ অধিবেশনে গঠিত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি) সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ নেতৃত্ব। তাঁর বক্তব্য, আদালতের নথিতেই সেই কমিটির বৈধতার স্বীকৃতি রয়েছে।

ঋতব্রতর দাবি, দলের পার্টি অফিস দখলের চেষ্টা এবং অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে তৃণমূলেরই একাংশের কর্মীরা আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সম্প্রতি ওই মামলার রায়ে আদালত জানিয়েছে, যে অধিবেশনে অরূপ রায়কে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল, সেই তৃণমূলই বৈধ সংগঠন। ফলে অন্য কোনও গোষ্ঠী নিজেদের তৃণমূল পরিচয় দিয়ে দলের পার্টি অফিস দখলের চেষ্টা করলে তা বেআইনি বলে গণ্য হবে।

অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এই দাবি খারিজ করেছে। তাদের অভিযোগ, মেট্রোপলিটনের পার্টি অফিস ঋতব্রত-শিবিরই বেআইনিভাবে দখল করেছে। পাশাপাশি, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই প্রশ্নও তুলেছে মমতা-ঘনিষ্ঠ শিবির।

মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে সামনে রেখে তৃণমূলের অন্দরে যে পৃথক গোষ্ঠীর উত্থান হয়েছে, তা বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ নামেই বেশি পরিচিত। গত ২২ জুন নিউ টাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে বৈঠক করে ওই গোষ্ঠী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে অরূপ রায়কে দলের চেয়ারপার্সন ঘোষণা করে। পাশাপাশি ঋতব্রত, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক এবং আখরুজ্জামান আনসারিকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়। এ ছাড়া, ৩০ সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করা হয়। পরে এই নতুন কমিটির তালিকা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়ে নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে ঋতব্রতদের শিবির। এর পাল্টা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও কমিশনে আপত্তিপত্র জমা দেয়। রাজনৈতিক মহলে সেই শিবির ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ নামে পরিচিত। বর্তমানে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন। তারা মাঝে ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে দল বেঁধে গিয়ে মেট্রোপলিটনে অস্থায়ী তৃণমূল ভবনের দখল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, দলের উপর নিজেদের দাবি আরও পাকাপোক্ত করতে রাজ্য ও জেলা কমিটিও গড়ে ফেলেছে তারা।

এমতাবস্থায় আলিপুর আদালতের রায়ের প্রতিলিপি দেখিয়ে ঋতব্রত জানান, এ বার আদালতই তাঁদের দাবিকে সিলমোহর দিয়েছে। তাঁর দাবি, ‘নিয়মনীতি মেনে পার্টির ফান্ড, নাম এ সব আমরা ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। যারা পার্টি অফিসগুলোয় জোর করে ঢুকতে যাবেন, আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ করব। মগের মুলুক চলবে না।’ বিরোধী দলনেতার সংযোজন, ‘কেউ আসল-নকল বিতর্ক তৈরি করতে চাইলে বলব, আদালতের এই রায় দেখে নিন। এই কমিটি বাদে কেউ নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করলে সেটা অবৈধ। এই কমিটি বাদে আর কেউ যদি তাদের নিজেদের কমিটি মেম্বার বলে দাবি করে তা হলে তাদের এ সব থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে।’

এ নিয়ে মমতা-পন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র উপাসনা চৌধুরী বলেন, ‘সে দিন সন্ধ্যে ছ'টার পরে তৃণমূল ভবনে (মেট্রোপলিটনের কার্যালয়) যাঁরা তালা মেরে এসেছিলেন, তাঁরা কি আইন মেনে ওটা করেছিল? আমরা কিন্তু ওই তালার উপর আর একটা তালা মারতেই পারতাম। আমরা প্রথম থেকে একটা কথা বলে এসেছি, ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের একটা চুক্তি রয়েছে। সেটা যারা অমান্য করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কি কোনও আইনি পদক্ষেপ হবে না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে দাঁড়ায়, সেখান থেকেই লাইন শুরু হয়।’


Share