Ritabrata Banerjee

তৃণমূলের দখলযুদ্ধ এ বার নির্বাচন কমিশনের দরজায়! মমতা বনাম ঋতব্রত, বৈধ নেতৃত্ব কার?

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অফিসে যাচ্ছি, একটা চিঠি দিতে। কী নিয়ে চিঠি দিচ্ছি তা বলব না।”

নির্বাচন কমিশনে গেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১০:২৮

নিউটাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশনে তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার দাবি করার পর এ বার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ শিবির। সোমবারের ওই বৈঠকে দল প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। একইসঙ্গে গঠন করা হয় নতুন ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি’ বা জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, নিজেদের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে যেতে পারেন ঋতব্রতরা। মঙ্গলবার সেই জল্পনাই সত্যি হল।

মঙ্গলবার বিকেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান আনসারি, সন্দীপন সাহা এবং অরূপ রায়কে নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে যায়। তবে কমিশনে গিয়ে ঠিক কী বিষয়ে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি ঋতব্রত। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অফিসে যাচ্ছি, একটা চিঠি দিতে। কী নিয়ে চিঠি দিচ্ছি তা বলব না।”

সূত্রের খবর, এ দিন বিকেল চারটে নাগাদ ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবীদের একটি দল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়েও যায়। সেখানে দল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের দাবি জানানো হয় এবং জানতে চাওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট রেজ্যুলিউশনের কপি ব্যক্তিগতভাবে জমা দিতে হবে কি না। তবে সেই বিষয়ে স্পষ্ট কোনও উত্তর মেলেনি। এরপরই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যান ঋতব্রতরা। জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লি যেতে পারে।

এই ঘটনাপ্রবাহের পেছনে রয়েছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির যখন নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একটি পৃথক কমিটির তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠান। সেই তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে নিজেই স্বাক্ষর করেন তিনি। ফলে একই দলের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক নেতৃত্ব কাঠামোর দাবি সামনে এসেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো কমিটিতে চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন তিনি নিজে। সহ-সভাপতি করা হয়েছে সুব্রত বক্সীকে। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনকে। কোষাধ্যক্ষ শুভাশিষ চক্রবর্তী এবং রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এছাড়াও কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন অমিত মিত্র, অসীমা পাত্র, মলয় ঘটক, গৌতম দেব, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বীরবাহা হাঁসদা, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, নাদিমুল হক, মদন মিত্র, মহুয়া মৈত্র এবং কুণাল ঘোষ।

অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের ঘোষিত কমিটিতে চেয়ারম্যান করা হয়েছে অরূপ রায়কে। সহ-সভাপতির পদে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান আনসারিকে।

এখন নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। একই রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক কমিটি ও নেতৃত্বের দাবি জমা পড়লে কমিশন কাকে বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের গণ্ডি পেরিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। তার আগে কমিশনের অবস্থানই নির্ধারণ করবে এই লড়াইয়ের পরবর্তী দিক।


Share