Rekha Patra

‘পড়াশোনা জানি না, জেলা আমাকে মিসগাইড করে’, ফের বিস্ফোরক রেখা! বাবার ‘ডাক্তারি’ মন্তব্য সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল

কয়েক দিন আগেই আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে অন্য বিধানসভা এলাকায় গিয়ে জোর করে জমি দখলের অভিযোগে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনার পর দলের তরফেও রেখার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা হয়েছিল।

রেখা পাত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৭

বিজেপির অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে চলেছেন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র। কয়েক দিন আগেই আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে অন্য বিধানসভা এলাকায় গিয়ে জোর করে জমি দখলের অভিযোগে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনার পর দলের তরফেও রেখার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা হয়েছিল। এ বার তিনি সরাসরি দলের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুললেন।

বিধায়ক রেখার দাবি, “জেলা থেকে আমাকে মিসগাইড করা হয়। কারণ আমি পড়াশোনা জানি না।” এর পরই নিজের বাবার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মন্তব্য, “তবে আমার বাবা এইট-নাইন পাশ করে বাইরে ডাক্তারি করতেন।”

রেখার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে নতুন করে জেলার বিজেপি নেতৃত্ব অস্বস্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে রেখার বাবার ‘ডাক্তারি’ করার দাবি নিয়ে সমাজমাধ‍্যমে শুরু হয়েছে নানা ধরনের কটাক্ষ ও হাসি-ঠাট্টা।

দিন কয়েক আগেই সন্দেশখালিতে শরিকি জমি নিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হতেই দলের অন্দরেও তিনি চাপে পড়েন। নিজের বিধানসভা এলাকা ছেড়ে সন্দেশখালিতে গিয়ে মারামারিতে জড়ানো এবং কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর গায়ে হাত তোলার অভিযোগে বিরোধীদের পাশাপাশি বিজেপির একাংশের কাছ থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রেখা।

শুক্রবার সেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রেখার দাবি, “যে মেজবাবুকে চড় মেরেছিলাম, তার গায়ে পোশাক ছিল না বলে বুঝতে পারিনি। তা স্বীকার করে মেজবাবুর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই। দলের প্রতিনিধি থাকতে আমাকে কেন আসতে হবে বলে একটা চড় মেরেছিলাম।” এর পাশাপাশি জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও বিজেপি বিধায়ক ক্ষোভ উগরে দেন। রেখা বলেন, “পড়াশোনা জানি না বলে জেলা কমিটি সব সময়ে আমাকে অপমানিত করে বলে দলের কোনও অনুষ্ঠানে যাই না। এ বিষয়ে দল যেন ঠিকঠাক বিচার করে।”

রেখার অভিযোগ নিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, “রেখাকে আমরা সম্মান করি। সব সময়ে ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ করা হয়। তা সত্ত্বেও কেন এমন কথা বললেন তা উনিই বলতে পারবেন।”


Share